কলকাতা বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাড়ানোয় অনেক যাত্রীই আশ্বস্ত। এক যাত্রী বলেন, "পরিস্থিতি এমন যে নিরাপত্তা জোরদার হওয়াই দরকার। কিছুটা সময় বেশি লাগলেও নিরাপত্তা আগে।"

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 22 November 2025 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিস্ফোরণের (Delhi Blust) ঘটনায় গোটা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই পূর্ব ভারতের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর — নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তায় আরও কড়াকড়ি আনা হল (Security ,Kolkata Airport)।
ইতিমধ্যেই নতুন করে ৬৯ জন সিআইএসএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে বিমানবন্দরের বিভিন্ন গেট, টার্মিনাল এবং রানওয়ে সংলগ্ন নিরাপত্তা পয়েন্টে (additional forces deployed, )। এর ফলে বর্তমানে কলকাতা বিমানবন্দরে মোট সিআইএসএফ জওয়ানের সংখ্যা দাঁড়াল ২,১০২ জন।
সূত্রের খবর, এখানেই শেষ নয়। নিরাপত্তা আরও সুরক্ষিত করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অতিরিক্ত আরও ১০০ জওয়ান যোগ দিতে চলেছেন কলকাতা বিমানবন্দরের দায়িত্বে। সেই কারণে নিরাপত্তা বলয়ের ঘনত্ব বাড়বে টার্মিনালের ভেতরের অংশ ছাড়াও কার পার্কিং জোন, ব্যাগেজ স্ক্রিনিং কাউন্টার, ভিআইপি করিডর, লজিস্টিক কার্গো টার্মিনাল এবং এয়ারসাইড এলাকায়।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা বিমানবন্দরগুলিকে বিশেষ সতর্কতা নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রবেশদ্বারে যাত্রী স্ক্যানিং আরও কঠোর করা হয়েছে, লাগেজ স্ক্রিনিংয়ে ডুয়াল লেয়ার সিস্টেম চালু, ড্রপ-অ্যান্ড-গো জোনে টহলদারি বৃদ্ধি, সন্দেহজনক যানবাহন চিহ্নিতকরণে বিশেষ নজর এবং টার্মিনালে ব়্যান্ডম ফ্রিস্কিং বাড়ানো।
শুধু টহল নয়, নিরাপত্তা বাড়াতে আধুনিক সরঞ্জামও ব্যবহার করা হচ্ছে। ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (ERT), কুইক রিঅ্যাকশন টিম (QRT) এবং স্নাইফার ডগ স্কোয়াডকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ড্রোন নজরদারি, বায়োমেট্রিক মনিটরিং এবং মুখ চিনে শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এয়ারপোর্ট অথরিটি সূত্রে খবর, উৎসবের মরসুম এবং আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল বাড়ার সময়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫০০-রও বেশি বিমান ওঠানামা করে কলকাতা বিমানবন্দরে। যাত্রী সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বলয় মজবুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তাকর্মীদের মতে, এখন কোনও অভিযোগ বা সন্দেহের তুচ্ছ ইঙ্গিত পেলেও তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্বে। যাত্রীদেরও সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে— পরিচয়পত্র বহন, লাগেজে সিল করা, চেক-ইন কাউন্টারে আগাম উপস্থিত হওয়া এবং নিরাপত্তা ফ্রেমে বাধাহীন সহযোগিতা।
কলকাতা বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাড়ানোয় অনেক যাত্রীই আশ্বস্ত। এক যাত্রী বলেন, "পরিস্থিতি এমন যে নিরাপত্তা জোরদার হওয়াই দরকার। কিছুটা সময় বেশি লাগলেও নিরাপত্তা আগে।"
দিল্লির ঘটনার পর কলকাতা বিমানবন্দরকে রেড অ্যালার্ট পর্যায়ে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যত শক্ত হবে, শঙ্কা তত কমবে। এবার সেই দিকেই দৃঢ় পদক্ষেপ নিল কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।