Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’

মানসিক শান্তির খোঁজে নিজের শ্রাদ্ধ করলেন প্রাক্তন সেনা! পাত পেড়ে খাওয়ালেন ১১০০ জনকে

বললেন, “জীবনে যা করার নিজের হাতেই করতে চাই। মৃত্যুর পর কে কী করবে, তা ভাবার মানে দেখি না।”


 

মানসিক শান্তির খোঁজে নিজের শ্রাদ্ধ করলেন প্রাক্তন সেনা! পাত পেড়ে খাওয়ালেন ১১০০ জনকে

ছবি-সংগৃহীত।

সুমন বটব্যাল

শেষ আপডেট: 21 November 2025 18:51

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবিত অবস্থায় নিজের শ্রাদ্ধ নিজেই করলেন ৭৮ বছরের এক প্রাক্তন সেনা (78-year-old ex-soldier)! যাকে বলে, রীতিমতো ঘটা করে। এজন্য এলাকার প্রায় ৪০০ পরিবারে গিয়ে হাতজোড় করে আমন্ত্রণও করে এসেছিলেন তিনি। 

জীবিত মানুষের কাছ থেকে তাঁর নিজের শ্রাদ্ধের আমন্ত্রণ শুনে গ্রামবাসীরা প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো ভুল শুনছেন। পরে নিশ্চিত হতে গিয়ে বিস্ময় আরও বেড়েছে। কারণ, যিনি নিমন্ত্রণ জানালেন, তিনি একেবারে সুস্থ, সচল— পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের (Ketugram, East Burdwan) দাসপাড়ার ৭৮ বছরের প্রাক্তন সেনাকর্মী শান্তি দাস।

গত সোমবার গ্রামবাসীদের পাত পেড়ে খাইয়ে জীবিত অবস্থায় নিজেই করলেন নিজের শ্রাদ্ধ (performs his own Shraddha,  search of peace of mind)। প্রায় ১১০০ জন অতিথি জমায়েত হয়েছিলেন তাঁর বাড়িতে। কীর্তন, মৎস্যভোজ, নিয়মমাফিক শ্রাদ্ধের সব উপাচার— সবটাই আয়োজন করেছিলেন শান্তি নিজে। আর এই অভিনব সিদ্ধান্তে সরগরম পুরো এলাকা। কেউ বিস্মিত, কেউ আবেগাপ্লুত, কেউ সমালোচনায় মুখর।

শান্তির স্ত্রী মারা গিয়েছেন বহু বছর আগে। এক ছেলে ও এক মেয়ের সঙ্গে নাকি সম্পর্কও এখন বেশ তিক্ত। তবে তাঁর বক্তব্য, এই আয়োজনের নেপথ্যে রাগ, অভিমান নয়— আছে মুক্তির আকাঙ্খা এবং মানসিক শান্তির সন্ধান। বললেন, “জীবনে যা করার নিজের হাতেই করতে চাই। মৃত্যুর পর কে কী করবে, তা ভাবার মানে দেখি না।”

প্রশ্ন করা হলে সন্তানদের প্রতি ক্ষোভ আছে কি না, শান্তি সরাসরি উত্তর দেননি। শুধু বলেছেন, “মনকে শান্ত রাখতে এই আয়োজন করেছি।” বৃদ্ধের দুই সন্তান বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি, অনুষ্ঠানের আগা গোড়া ছিলেন নির্বিকার, নীরব দর্শক।

গ্রামবাসীদের অনেকেই প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারেননি। নিমন্ত্রিতদের একজন বললেন, “ভাবলাম, হয়তো মজা করছেন। পরে বাড়িতে এসে দেখি পুরোপুরি নিয়ম মেনে শ্রাদ্ধ চলছে, আর যাঁর শ্রাদ্ধ— তিনিই অতিথিদের মাঝে বসে তদারকি করছেন!”

শান্তির নিজের শ্রাদ্ধ নিয়ে গ্রামে মতভেদ চরমে। কেউ বলছেন, ব্যক্তিস্বাধীনতা আর আত্মনির্ভরতার সাহসী উদাহরণ। তাঁদের মতে, সমাজের বাঁধাধরা রীতি ভেঙে জীবন সম্পর্কে অন্য এক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন বৃদ্ধ। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, এরকম আয়োজন বাড়াবাড়ি, এমন অস্বাভাবিক সিদ্ধান্তের সামাজিক প্রভাব ভাল নাও হতে পারে।

তবে বিতর্কে বিচলিত নন শান্তি দাস। তাঁর একটাই বক্তব্য, “যা করার, এখনই করো। বেঁচে থাকতে করো। পরে বলে কিছু হয় না।”

জীবনের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে এই অপ্রচলিত পথ বেছে নেওয়া প্রাক্তন সেনাকর্মীর সিদ্ধান্ত এখন দাসপাড়ার গণ্ডি পেরিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোচনার বিষয়। জীবিত মানুষের শ্রাদ্ধ— আচার, বিশ্বাস, সমাজবোধ— সবকিছুকেই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করাল তাঁর এই অভিনব পদক্ষেপ।
 


```