দেখা যাচ্ছে, বহু বাসিন্দা বাড়ি ছাড়তে নারাজ। আসলে অনেকে আশঙ্কা করছেন, একবার বেরিয়ে এলে ভবিষ্যতে সেই জায়গায় তাঁদের আর জায়গা হবে না।

ফিরহাদ হাকিম
শেষ আপডেট: 2 August 2025 16:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার একাধিক পুরনো বাড়ি পরপর ভেঙে পড়েছে (Building Collapse)। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে জনমানসে। কারণ এখনও বহু বিপজ্জনক বাড়ির অস্তিত্ব রয়েছে শহরে (Kolkata)। কিন্তু বিষয় হল, সেগুলির সংরক্ষণ তো দূরের কথা, ভেঙে ফেলা বা সংস্কার করাও সম্ভব হচ্ছে না। কেন, এই নিয়ে মুখ খুলেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)।
মালিক-ভাড়াটে কিংবা শরিকদের মধ্যে গন্ডগোলই মূল কারণ, বাড়ি না ভাঙতে পারার! সাফ বক্তব্য মেয়রের। তাঁর কথায়, এর ফলেই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া বহু বাড়িতেই এখনও বাস করছেন বহু মানুষ। ফিরহাদের কথায়, ''বাড়ি ভেঙে পড়ে যাচ্ছে, এদিকে তাকে যখের ধনের মত আটকে রাখা হচ্ছে, এই সমস্যা রয়েছে কলকাতায়। আমি তো জোর করতে পারি না। সংবিধান আমাকে সেই অধিকার দেয়নি।''
এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার (KMC) তরফে জানানো হয়েছে, পুরসভা 'অকুপেন্সি সার্টিফিকেট' দিয়ে দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করছে যাতে বিপজ্জনক বাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা জানেন যে তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে রয়েছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বহু বাসিন্দা বাড়ি ছাড়তে নারাজ। আসলে অনেকে আশঙ্কা করছেন, একবার বেরিয়ে এলে ভবিষ্যতে সেই জায়গায় তাঁদের আর জায়গা হবে না। সেই ভয়েই নিজের দায়িত্বে বসবাস করছেন এই সব বাড়িতে।
পুর প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সংবিধান তাঁদের জোর করে কাউকে উচ্ছেদ করার অধিকার দেয়নি। পুরসভার মেয়র বলেছেন, "আমি আপনাকে অনুরোধ করতে পারি, কিছু সুবিধা দিতে পারি, কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি জোর করে দখলমুক্ত করতে পারি না।"
কলকাতায় এমন বিপজ্জনক বাড়ির সংখ্যা বহু। কোনও বাড়ি হেলে পড়েছে পাশের রাস্তার দিকে, কোথাও ছাদ ভেঙে পড়ার ভয়। তবু তেমন কিছু ঘটলেই দায় কার? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনই মিলছে না। প্রশাসনের তরফে শুধু বারবার আবেদন জানানো হয়েছে — বিপজ্জনক বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরে যান, নয়তো জীবন নিয়ে ঝুঁকি থাকছেই।