রাজভবন সূত্রের খবর, আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে মামলা কোন ধারায় করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। অভিযোগ সংক্রান্ত নথিও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল
শেষ আপডেট: 18 November 2025 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose) ও তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) মধ্যে সংঘাত ঘনীভূত হয়েছে আরও এক ধাপ। রাজভবনে অস্ত্রশস্ত্র মজুত থাকা নিয়ে কল্যাণের বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে এবার সাংসদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজভবন— এমনটাই দাবি রাজভবনের শীর্ষ মহলের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কল্যাণের নামে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
রাজভবন সূত্রের খবর, আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে মামলা কোন ধারায় করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। অভিযোগ সংক্রান্ত নথিও প্রস্তুত করা হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টেই মামলা দায়ের হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কল্যাণ অবশ্য তাতে বিচলিত নন। তাঁর কটাক্ষ, “উনি যা খুশি করুন। মামলা করলে যেন নিজেই করেন, অন্য কাউকে দিয়ে নয়।”
কোন কোন ধারায় মামলা?
রাজভবন সূত্রের দাবি, ভারতের ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর আটটি ধারায় মামলা করার পরিকল্পনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
রাজভবনের মতে, এ সব ধারাই কল্যাণের বক্তব্যে প্রযোজ্য।
কীভাবে শুরু হল পুরো ঘটনা?
শনিবার, এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধনী)-কে সমর্থন জানিয়ে রাজ্যপাল বিবৃতি দেন। এর পরেই কল্যাণ অভিযোগ ছুড়ে দেন। রাজ্যপাল নাকি রাজভবনে “বিজেপির অপরাধীদের আশ্রয় দিচ্ছেন”, তাঁদের “বন্দুক-বোমা সরবরাহ করছেন” এবং তৃণমূলকর্মীদের আক্রমণে উস্কানি দিচ্ছেন।
এই মন্তব্যে রীতিমতো রেগে যান রাজ্যপাল। রবিবারই রাজভবন পাল্টা বিবৃতি দেয়। পরে কল্যাণ ফের আক্রমণ শানান।
তারপরই নজিরবিহীন তল্লাশি
সোমবার উত্তরবঙ্গ সফর শেষে কলকাতা ফিরেই রাজ্যপাল নিরাপত্তা বাহিনী, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্নিফার ডগ নিয়ে রাজভবন চত্বরে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেন। উপস্থিত ছিলেন সংবাদমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও।
তল্লাশি শেষে রাজ্যপাল ঘোষণা করেন, “রাজভবনে কোনও আপত্তিকর জিনিস নেই। তাই সাংসদ কল্যাণকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতেই হবে।” তবে রাজভবনের এক আধিকারিকের কথায়, রাজ্যপাল বুঝেছিলেন সাংসদ কোনওভাবেই ক্ষমা চাইবেন না। তাই আগেই কড়া মামলার প্রস্তুতি শুরু করতে বলেন তিনি।
রাজভবনের কর্মীদের ধারণা, চলতি সপ্তাহেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হতে পারে। মন্তব্যের পর থেকেই রাজ্যপাল “অত্যন্ত ক্ষুব্ধ”, তাই দ্রুত পদক্ষেপ চলছে।