রাজ্যপালের এফআইআর-এর পর আরও ক্ষুব্ধ হন কল্যাণ। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুত বলেই জানালেন তিনি।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল
শেষ আপডেট: 16 November 2025 19:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউই থেমে থাকার পাত্র নন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) একটি মন্তব্য ঘিরে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose) ও তৃণমূল সাংসদের বাগযুদ্ধ যেন সমান্তরাল রেখায় চলছে। দু’পক্ষই এখন প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন একে অপরকে; আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারিও আসছে দু' দিক থেকেই।
শনিবার চুঁচুড়ার তৃণমূল সভামঞ্চ থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ। অভিযোগ, “রাজ্যপাল রাজভবনে বসে বিজেপির ক্রিমিনালদের ডাকছেন। সবাইকে বন্দুক-বোমা দিচ্ছেন।”
এই মন্তব্য রাত পেরোনোর আগেই কড়া সুরে প্রতিক্রিয়া জানায় রাজভবন। বিবৃতিতে রাজ্যপালের দফতর জানায়— রাজভবন ‘খোলা’, যে কেউ স্বচক্ষে তদন্ত করতে পারেন। পাশাপাশি কল্যাণের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চেয়ে আবেদনও জানান রাজ্যপাল। সতর্ক করে দেন, অভিযোগ মিথ্যে প্রমাণ হলে সাংসদকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
রবিবার নয়াদিল্লির তৃণমূল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফের তোপ দাগেন কল্যাণ। তবে ততক্ষণে রাজ্যপালও সাংবাদিকদের সামনে এক প্রকার ‘আইনি যুদ্ধ’-এর বার্তা দিয়ে রেখেছেন।
রাজ্যপালের অভিযোগ, “এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কুরুচিকর আক্রমণ; যা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।” তিনি জানান, পুলিশের কাছে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি এবং প্রয়োজনে আরও আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে। এমনকি পুলিশ যদি তদন্তে ঢিল দেয়, রাজ্যের ‘সাংবিধানিক প্রধান’ হিসাবে ব্যবস্থা নেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্যপালের এফআইআর-এর পর আরও ক্ষুব্ধ হন কল্যাণ। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুত বলেই জানালেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “এক পক্ষ হতে পারে না। দু’পক্ষই হতে হবে। প্রয়োজনে আমিই মামলা করব।”
তারপরই রাজ্যপালকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তৃণমূল সাংসদ। বলেন, “সাহস থাকলে একটা উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি করুন। এক দিকে আপনি, এক দিকে আমি। সাংবাদিকদের সামনে প্রমাণ করে দেব, আপনি কীভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সাহস থাকলে এই প্রস্তাব গ্রহণ করুন।”
এমনকি অতীতের অভিযোগও টেনে আনেন তিনি। জানান, “ওঁর বিরুদ্ধে তো মহিলারাও অভিযোগ করেছিলেন। ব্রাত্য বসুকে কিছু বলতে গেলে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।”
এক দিনের বাগযুদ্ধ এখন রীতিমতো সাংবিধানিক টানাপড়েনের রূপ নিয়েছে। রাজ্যপাল-তৃণমূল সংঘাত নতুন নয়, তবে কল্যাণের মন্তব্য এবং রাজভবনের দ্রুত আইনি প্রতিক্রিয়া, দু’টি মিলে রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এই সংঘাত এখন কদ্দুর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে এখন সকলে।