ভোরের আলো পড়তেই খুলে দেওয়া হল সিংহদুয়ার— সাংসদ থেকে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক, মিলিয়ে ১০০ জনের জন্য ‘ওপেন ভিজিট’-এর ঘোষণা।

কল্যাণ-রাজ্যপাল বিতর্ক তুঙ্গে
শেষ আপডেট: 16 November 2025 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজভবন (Raj Bhavan) থেকে নাকি বন্দুক-বোমা যায়! তৃণমূল সাংসদ (TMC MP) কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পরই প্রবল আলোচনার ঝড় রাজ্য রাজনীতিতে। অভিযোগের জবাবে নীরব না থেকে রবিবার সকালেই পালটা পদক্ষেপ করল রাজভবন। ভোরের আলো পড়তেই খুলে দেওয়া হল সিংহদুয়ার— সাংসদ থেকে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক, মিলিয়ে ১০০ জনের জন্য ‘ওপেন ভিজিট’-এর ঘোষণা।
বিহার ভোটের ফল প্রকাশের পরে এসআইআর প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও সময়োপযোগী বলে জানান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি দাবি করেন, বিহারের মতো বাংলাতেও এই নতুন পদ্ধতি ভোটদাতারা সাদরে গ্রহণ করবেন। আর সেখানেই আপত্তি তোলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “রাজভবনে বিজেপির অপরাধীরা আশ্রয় পাচ্ছে। তাদের হাতে বন্দুক-বোমা তুলে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলকর্মীদের আক্রমণের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। আগে এগুলো বন্ধ করুন। তিনি অপদার্থ রাজ্যপাল, বিজেপির চাকরবাকর!”
এই মন্তব্যের পরই সক্রিয় হয় রাজভবন। শনিবার গভীর রাতে রাজভবন জারি করে কড়া বিবৃতি। বলা হয়, রাজভবনে অস্ত্র মজুত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য ১০০ জন প্রবেশ করতে পারবেন। সাংসদের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে তাঁর ‘জনসমক্ষে ক্ষমা’ চাওয়া উচিত বলে মত রাজভবনের। পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে তারা। এমনকি লোকসভার স্পিকারের কাছেও তদন্তের অনুরোধ পাঠানো হবে।
রবিবার ভোর পাঁচটা থেকেই খুলে দেওয়া হয় রাজভবনের দরজা। তবে প্রশ্ন উঠছে, যদি সত্যিই গোলাবারুদ মজুত থাকে, তাহলে তার দায় কার? রাজভবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব যেহেতু কলকাতা পুলিশের, তবে অস্ত্র ঢোকা বা রাখা— কীভাবে? অনুমতি কি দেওয়া হয়েছিল?
গত কয়েক বছরে রাজ্য ও রাজভবনের মধ্যে বার বার সংঘাত দেখা গিয়েছে। কল্যাণের আক্রমণে এবার টানাপড়েন অন্য মাত্রা পেল। কল্য়াণ মিথ্যে বলে থাকলে, প্রকাশ্যে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছে রাজভবন। রাজ্যপাল জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান, তার পরও বোমা-বন্দুক ঢুকে থাকলে পুলিশকে জবাব দিতে হবে বলে জানানো হয়।
একই সঙ্গে রাজ্যপালের বাসস্থান নিয়েও উঠেছে অনিশ্চয়তা। রাজভবন সূত্রের খবর, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যপালকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও রাজ্যপাল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি রাজভবন ছাড়ছেন না।