দুর্গাপুরের ধর্ষণের মামলা নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে রিপোর্ট জমা দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁর পর্যবেক্ষণও জানিয়েছেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 October 2025 23:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলার তদন্ত নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বুধবার রাজভবনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্যপাল নিজে দুর্গাপুর সফরে গিয়ে যে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে যা বুঝেছেন, সেসব বিষয় নিয়েই তৈরি হয়েছে রিপোর্টটি।
রাষ্ট্রপতি মুর্মু, যিনি নিজেও ওড়িশার বাসিন্দা, তাঁকে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেই তাঁকে ওড়িশায় ফিরিয়ে নিতে চান, সেকথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যপাল বলেছেন, 'তাঁদের (নির্যাতিতার পরিবারের) অনুভূতিকে বুঝতে হবে। এই কঠিন সময়ে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের পাশে থেকে যা যা করা প্রয়োজন, তা করতে হবে।'
বোস আরও জানান, ঘটনার তদন্ত নিয়ে তিনি জাতীয় মহিলা কমিশনের তরফেও একটি রিপোর্ট পেয়েছেন।
এর আগে বুধবারই ওড়িশার বালেশ্বরের বিজেপি সাংসদ প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গী রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন এবং নিজের পর্যবেক্ষণ শেয়ার করেন। রাজ্যপাল বলেন, 'আজ আমি বালেশ্বরের সাংসদের কাছ থেকে একটি রিপ্রেজেন্টেশন পেয়েছি। তাঁরা কিছু প্রস্তাবও দিয়েছেন, তবে সেগুলি গোপন রাখা প্রয়োজন।'
সাংসদ সারঙ্গী পরে সাংবাদিকদের বলেন, 'যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা আসল অপরাধী কিনা, বলির পাঁঠা হচ্ছে কি না, সেটা নিশ্চিত করতে টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন (TI) প্যারেড করা জরুরি।'
উল্লেখ্য, ২০ বছর বয়সি ওই মেডিক্যাল ছাত্রী১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় এক পুরুষ সহপাঠীর সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে খাবার কিনতে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন ওই সহপাঠীও।
ঘটনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে। ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল দুর্গাপুরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। কেন্দ্র এবং মহিলা কমিশনের তরফে চাপ বাড়ছে, দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের জন্য।