ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতার চিকিৎসা চলছে, পাশাপাশি তাঁর মানসিক অবস্থার দিকেও নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবারই ধৃতদের মধ্যে দু’জন - শেখ নাসিরুদ্দিন ও শেখ রিয়াজউদ্দিনকে নিয়ে পুলিশ পৌঁছয় বিজাড়া গ্রামে তাঁদের বাড়িতে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 October 2025 07:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুরকাণ্ডে দীর্ঘ জেরার পর অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়েছে নির্যাতিতা মেডিক্যাল পড়ুয়ার সহপাঠীকে (Durgapur Medical Student Assault Case)। ইতিমধ্যেই তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গণধর্ষণ নয়, গোটা ঘটনায় ধর্ষক একজনই, নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দির ভিত্তিতে এমনই অনুমান পুলিশের। তবে ধৃত সকলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, সহপাঠীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা নিজেই। পুলিশও তাঁকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখছে না।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবারই নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, পাশপাশি সহপাঠী ও ধৃতদের নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হয়েছিল। এরপরই সন্ধ্যায় সহপাঠীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ঘটনার পর থেকেই লাগাতার জেরা করা হচ্ছিল ওই যুবককে।
আরও জানা গেছে, নির্যাতিতার সহপাঠী (Victim's Friend) মালদহের বাসিন্দা। মাঝেমধ্যেই তদন্তে অসহযোগিতা করছিলেন বলে খবর পুলিশ সূত্রের। তিনিই বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতার চিকিৎসা চলছে, পাশাপাশি তাঁর মানসিক অবস্থার দিকেও নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবারই ধৃতদের মধ্যে দু’জন - শেখ নাসিরুদ্দিন ও শেখ রিয়াজউদ্দিনকে নিয়ে পুলিশ পৌঁছয় বিজাড়া গ্রামে তাঁদের বাড়িতে। তদন্তকারীরা সেখান থেকে উদ্ধার করেছেন কিছু পোশাক (Clothes) যা শুক্রবার অর্থাৎ ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা পরেছিল। ওই পোশাকগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার (Forensic Exam) জন্য পাঠানো হবে।
নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা দ্রুত সম্ভব মেয়েকে ওড়িশায় (Odisha) নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যেতে চান। তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের সর্বশেষ মেডিকেল বুলেটিনে বলা হয়েছে, তিনি আগের থেকে ভাল আছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
কী ঘটেছিল?
সূত্রে খবর, গত শুক্রবার রাতে দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী কলেজের হস্টেল থেকে এক বন্ধুর সঙ্গে খাবার খেতে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, ফেরার পথে তাঁকে জোর করে একটি নির্জন জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় (Durgapur Medical Student Assault)। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ৩ হাজার টাকা চায়। মেয়েটি টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধরও করা হয়। কিছু সময় পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর বন্ধু তাঁকে উদ্ধার করে।