দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনায় নতুন মোড়! নির্যাতিতার সহপাঠীকেও গ্রেফতার করল পুলিশ, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬। সব অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা হবে, জানিয়েছে কমিশনারেট।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 October 2025 20:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি ছাত্রীর গণধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্তের সংখ্যা আরও বাড়ল। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ নির্যাতিতার এক সহপাঠীকেও গ্রেফতার করেছে। পুলিশ কমিশনারের সাংবাদিক বৈঠকের ঠিক পরপরই পুলিশ ওই যুবককে পাকড়াও করে।
দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াকে ধর্ষণের ঘটনায় নতুন তথ্য জানাল পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনায় মূল অভিযুক্ত একজনই। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যদের ভূমিকা নিয়েও চলছে বিস্তারিত অনুসন্ধান। মঙ্গলবার, অর্থাৎ ঘটনার চার দিন পর এই তথ্য জানিয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবারই নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে পরানগঞ্জের সেই জঙ্গলে পৌঁছয় পুলিশ দল। সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী বলেন, “নির্যাতিতার সহপাঠীর ভূমিকাও এখনও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতার চিকিৎসা চলছে, পাশাপাশি তাঁর মানসিক অবস্থার দিকেও নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবারই ধৃতদের মধ্যে দু’জন - শেখ নাসিরুদ্দিন ও শেখ রিয়াজউদ্দিনকে নিয়ে পুলিশ পৌঁছয় বিজাড়া গ্রামে তাঁদের বাড়িতে। তদন্তকারীরা সেখান থেকে উদ্ধার করেছেন কিছু পোশাক (Clothes) যা শুক্রবার অর্থাৎ ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা পরেছিল। ওই পোশাকগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার (Forensic Exam) জন্য পাঠানো হবে। একই সঙ্গে আজই দুপুরে ধৃত দু’জনকে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই রাতের ঘটনার পুনর্নিমাণ করিয়েছে।
নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা দ্রুত সম্ভব মেয়েকে ওড়িশায় (Odisha) নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যেতে চান। তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের সর্বশেষ মেডিকেল বুলেটিনে বলা হয়েছে, তিনি আগের থেকে ভাল আছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
পুলিশের তরফে কড়া বার্তা দিয়ে জানান হয়েছে, সব দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এদিকে দুর্গাপুর কাণ্ড নিয়ে ১১ দফা সুপারিশ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে (CV Ananda Bose) চিঠি পাঠিয়েছে তারা।