শুধু তাই নয়, হাজির হলেন সিআরপিএফ (CRP) ও কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) আধিকারিকরাও। যৌথভাবে তল্লাশি চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শেষ আপডেট: 17 November 2025 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) সঙ্গে রাজভবনের সংঘাতের শেষ নেই। সোমবার তা চরম পর্বে পৌঁছল। সাংসদের বক্তব্যে রাজভবনের অন্দরে ‘বোমা-বন্দুক মজুত’ থাকার অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। আর সেই অভিযোগের জবাবেই সকালে রাজ্যপাল (Governor) সিভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose) ডেকে পাঠালেন বম্ব স্কোয়াডকে (Bomb Squad)। শুধু তাই নয়, হাজির হলেন সিআরপিএফ (CRP) ও কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) আধিকারিকরাও। যৌথভাবে তল্লাশি চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার চুঁচুড়ার এক সভা থেকে। তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের বৈঠকে উপস্থিত হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণের পর রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “রাজভবনে ক্রিমিনালদের ঢোকাচ্ছেন রাজ্যপাল। সবার হাতে বন্দুক-বোমা দিচ্ছেন। বলছেন, তৃণমূলকে মেরে এসো।”
রাজ্যপালের ‘ব্যালটে ভোট, বুলেটে নয়’ মন্তব্য ঘিরেও তৃণমূল সাংসদের কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। এর পরেই রাজভবনের পাল্টা চাল। রবিবার বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, সোমবার ভোর ৫টা থেকে সীমিত সংখ্যক সাংসদ, সমাজের প্রতিনিধিদের এবং সাংবাদিকদের জন্য রাজভবন খুলে দেওয়া হবে। তাঁরা নিজের চোখে দেখে নিতে পারবেন, আদৌ কোনও বোমা-বন্দুক মজুত আছে কি না। এবং “কল্যাণবাবুর দাবি মিথ্যা হলে, তাঁকে বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।”
রাজ্যপালের অভিযোগ, “এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কুরুচিকর আক্রমণ; যা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।” তিনি জানান, পুলিশের কাছে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি এবং প্রয়োজনে আরও আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে। এমনকি পুলিশ যদি তদন্তে ঢিল দেয়, রাজ্যের ‘সাংবিধানিক প্রধান’ হিসাবে ব্যবস্থা নেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্যপালের এফআইআর-এর পর আরও ক্ষুব্ধ হন কল্যাণ। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুত বলেই জানালেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “এক পক্ষ হতে পারে না। দু’পক্ষই হতে হবে। প্রয়োজনে আমিই মামলা করব।”
তারপরই রাজ্যপালকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তৃণমূল সাংসদ। বলেন, “সাহস থাকলে একটা উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি করুন। এক দিকে আপনি, এক দিকে আমি। সাংবাদিকদের সামনে প্রমাণ করে দেব, আপনি কীভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সাহস থাকলে এই প্রস্তাব গ্রহণ করুন।”
সোমবার সেই সময়সীমা পেরোতেই রাজভবনে বম্ব স্কোয়াডের প্রবেশ। তল্লাশি শুরুর আগে রাজভবনের তরফে বার্তা, “অভিযোগ আসলে ভিত্তিহীন। সত্য সামনে আসবে।” রাজ্য-রাজনীতিতে এই সংঘাত নতুন নয়। কিন্তু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) ‘বোমা’ মন্তব্য যেন এবার সরাসরি রাজভবনের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিল তদন্তকারী সংস্থাকে। এখন নজর, কী ফল মেলে সেই তল্লাশিতে।