শনিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দেন নির্যাতিতার মা-বাবা। তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়ে মিছিলে যোগ দেয় বিজেপি। তবে দলীয় পতাকা ছাড়া পথে নামেন শুভেন্দু অধিকারীরা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 August 2025 09:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Case) মেয়েকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার সুবিচারের দাবিতে নবান্ন অভিযানে (Nabanna Abhijan) পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন মা— এই অভিযোগ তুলে দু'দিন পর পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন নির্যাতিতার বাবা। সোমবার তিনি শেক্সপিয়র সরণি থানায় ই-মেলের মাধ্যমে অভিযোগ জমা দেন বলে খবর।
অভিযোগপত্রে তাঁর দাবি, সেদিন অভিযানের সময় প্রথমে তাঁর স্ত্রীর হাতের শাঁখা ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর মাথা ও পিঠে আঘাত করে পুলিশ। আঘাতের জেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাঁকে মুকুন্দপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
শুধু পুলিশ নয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পরও কোনও ইনজুরি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে হাতে আসে একটি ডিসচার্জ রিপোর্ট, যেখানে পুলিশের হামলার প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে কেবল ‘হেড ইনজুরি’-র উল্লেখ করা হয়েছে। এই অসঙ্গতি নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দেন নির্যাতিতার মা-বাবা। তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়ে মিছিলে যোগ দেয় বিজেপি। তবে দলীয় পতাকা ছাড়া পথে নামেন শুভেন্দু অধিকারীরা। দুপুর ১২টা নাগাদ ধর্মতলা থেকে রওনা হওয়া মিছিল পার্কস্ট্রিট মোড়ে পৌঁছাতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়। কিছুক্ষণ পরেই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ, এই সময় মহিলা পুলিশকর্মীদের লাঠির আঘাতে নির্যাতিতার মায়ের কপালে চোট লাগে, কপাল ফুলে যায়, হাতের শাঁখা পলা ভেঙে যায়।
ধস্তাধস্তির পর নির্ধারিত পথ ধরে রওনা হন নির্যাতিতার মা-বাবা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন প্রায় ৩০ জন সমর্থক, যার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ কৌস্তুভ বাগচিও ছিলেন। তাঁরা রেসকোর্সের পাশ দিয়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর দিকে এগোতে থাকেন। তবে মূল মিছিল তখনও পার্কস্ট্রিট মোড়েই আটকে ছিল। নির্যাতিতার বাবা-মায়ের অভিযোগ, রেসকোর্সের কাছেও তাঁদের পথ আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে একের পর এক গ্রিল, শালবল্লা ও বাঁশের ব্যারিকেড বসানো হয়।
মিছিল শুরুর আগে থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের গাড়ি একাধিকবার আটকানো হয়েছে, এমনকি পুলিশের চোখ এড়িয়ে ধর্মতলায় পৌঁছতে হয়েছে। হাইকোর্ট শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি দিলেও পথে পথে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।