মিছিল শুরুর আগে থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের গাড়ি একাধিকবার আটকানো হয়েছে, এমনকি পুলিশের চোখ এড়িয়ে ধর্মতলায় পৌঁছতে হয়েছে।

আরজি করের নিহত চিকিৎসকের মা
শেষ আপডেট: 9 August 2025 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার ঘড়িতে তখন প্রায় রাত একটা। আরজি করের (RG Kar) মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের (RG Kar Rape and Murder Case) ঘটনার এক বছরের মাথায় কলেজস্ট্রিট থেকে মিছিল করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এর পর শ্যামবাজারে রাতভর সমাবেশে যোগ দেন নির্যাতিতার বাবা-মা। সেই থেকে শনিবারের নবান্ন অভিযান (Nabanna Abhijan), মেয়ের সুবিচারের দাবিতে কখনও স্লোগান তুলেছেন, কখনও বা মাইক নিয়েছেন হাতে কখনও ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে মুঠো উঁচিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন, লড়াইয়ের মাঠ তাঁরা সহজে ছাড়বেন না।
এদিন নবান্ন অভিযানের মিছিলেই জখম হয়েছেন আরজি করের নির্যাতিতার মা (RG Kar Victim's Family)। তাঁর অভিযোগ, মহিলা পুলিশের লাঠির আঘাতে তাঁর কপাল ফুলেছে। শুধু ফোলা বললে ভুল হবে, যেটাকে চলতি বাংলায় বলে ফুলে আলু। ভেঙেছে হাতের শাঁখা পলাও। পরে বিকেলে বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।
নির্যাতিতার মায়ের (Victim's Mother) এই লড়াইটাও যেন অবাক করা। মফস্বল শহরের এক ছাপোসা মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের মহিলা, যাঁর জীবনের লক্ষ্য বা মোক্ষই ছিল মেয়েকে মানুষ করা, ডাক্তার করা। মিটিং মিছিলের অভিধান নিয়ে যাঁর কোনও ধারণাই ছিল না। মেয়ের জন্য সুবিচারের দাবিতে সেই মা একবার দিল্লিতে সিবিআই দফতরে যাচ্ছেন তো ফিরে এসেই নবান্ন অভিযানের ডাক দিচ্ছেন—এমন লড়াইয়ের জেদ অনুপ্রেরণা জোগানোর মতই।
শনিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দেন নির্যাতিতার মা-বাবা। তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়ে মিছিলে যোগ দেয় বিজেপি। তবে দলীয় পতাকা ছাড়া পথে নামেন শুভেন্দু অধিকারীরা। দুপুর ১২টা নাগাদ ধর্মতলা থেকে রওনা হওয়া মিছিল পার্কস্ট্রিট মোড়ে পৌঁছাতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়। কিছুক্ষণ পরেই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ, এই সময় মহিলা পুলিশকর্মীদের লাঠির আঘাতে নির্যাতিতার মায়ের কপালে চোট লাগে, কপাল ফুলে যায়, হাতের শাঁখা পলা ভেঙে যায়।
ধস্তাধস্তির পর নির্ধারিত পথ ধরে রওনা হন নির্যাতিতার মা-বাবা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন প্রায় ৩০ জন সমর্থক, যার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ কৌস্তুভ বাগচিও ছিলেন। তাঁরা রেসকোর্সের পাশ দিয়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর দিকে এগোতে থাকেন। তবে মূল মিছিল তখনও পার্কস্ট্রিট মোড়েই আটকে ছিল। নির্যাতিতার বাবা-মায়ের অভিযোগ, রেসকোর্সের কাছেও তাঁদের পথ আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে একের পর এক গ্রিল, শালবল্লা ও বাঁশের ব্যারিকেড বসানো হয়।
মিছিল শুরুর আগে থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের গাড়ি একাধিকবার আটকানো হয়েছে, এমনকি পুলিশের চোখ এড়িয়ে ধর্মতলায় পৌঁছতে হয়েছে। হাইকোর্ট শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি দিলেও পথে পথে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
অন্যদিকে পৌনে ১২টা নাগাদ শুভেন্দু অধিকারী মিছিলে যোগ দেন। এর আগে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, বিজেপি কোনও সংঘাতে যাবে না। পুলিশের এত ব্যারিকেডের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে তার অবমাননা করাটাকেও ছেড়ে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন মনোজ ভার্মার পুলিশের বিরুদ্ধে। স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, দেশের পতাকার অবমাননার জন্য পুলিশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে মামলা করবেন। দরকার পড়লে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত জেতেও পিছপা হবেন না তিনি।