অভয়ার মায়ের কথায়, মহিলা পুলিশ মেরে আমার হাতের শাঁখা ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, "আগে মেয়েকে মেরেছে, এবার আমাদের মারতে চাইছে। এর শেষে দেখে ছাড়ব।" পুলিশি বাধা উড়িয়ে নবান্নে তাঁরা যাবেন বলেও জানিয়েছেন।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 9 August 2025 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক (RG Kar) ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক বছর পরেও বিচার হয়নি— এই অভিযোগে শনিবার, ৯ অগস্ট, নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল নাগরিক সমাজ (Nabanna Abhijan)। সেই অভিযানে সামিল হয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মাও (, Abhaya's parents)। কিন্তু আন্দোলনের দিনেই ঘটল নতুন বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ চালায়, যাতে আক্রান্ত হয়েছেন অভয়ার মা-বাবাও।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অভিযোগ, “মমতার পুলিশ অভয়ার মা-বাবাকেও মেরেছে। এবার ওরা পাপে ধ্বংস হয়ে যাবে। এটা মমতা বনাম নারীবাহিনীর লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।” শুভেন্দুর দাবি, পুলিশের লাঠিচার্জে দলের একাধিক বিধায়ক-সহ প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অভয়ার মা-বাবাও রয়েছেন। পরে সংবাদ মাধ্যমের সামনে একই অভিযোগ করেছেন অভয়ার মা,বাবা।
তাঁরা বলেন, সিঁথির মোড়ে পৌঁছতেই আচমকা পুলিশ হামলা করে। অভয়ার মায়ের কথায়, মহিলা পুলিশ মেরে আমার হাতের শাঁখা ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, "আগে মেয়েকে মেরেছে, এবার আমাদের মারতে চাইছে। এর শেষে দেখে ছাড়ব।" পুলিশি বাধা উড়িয়ে নবান্নে তাঁরা যাবেন বলেও জানিয়েছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, “নির্যাতিতার মা-বাবাকে মারধরের কোনও খবর আমাদের কাছে নেই।” পুলিশের দাবি, এই অভিযানের জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবুও যদি বিধিনিষেধ অমান্য করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়, তবে আইন মেনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
অন্যদিকে বিরোধী দলনেতার বক্তব্য,মিছিলে কোনও রাজনৈতিক পতাকা নেই। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলছিল। সেখানেই পুলিশ হামলা চালাল। জাতীয় পতাকাকেও ওরা অপমান করতে ছাড়েনি।
শুক্রবারই শুভেন্দু অধিকারী সতর্ক করেছিলেন, অভয়ার মা-বাবার এই অভিযানে পুলিশের হাতে একজনও আক্রান্ত হলে আগামী ৭২ ঘণ্টা গোটা বাংলা স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। শনিবারের ঘটনার পর শুভেন্দু ফের সরব হয়ে জানান, “এটা শুধু পুলিশের বর্বরতা নয়, অভয়ার মা-বাবার প্রতি অপমান।”
নবান্ন অভিযানে এমন ঘটনায় আন্দোলনের আবহ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিচারহীনতার ক্ষোভ ও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তাপমাত্রা চড়েছে।