২০১২ সালের এপ্রিলে প্রত্যুষ (Pratyush Kumar Sureka) সংস্থার জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর হন। এরপর থেকেই সামনে আসে নানারকম জালিয়াতির অভিযোগ।

শেষ আপডেট: 18 January 2026 01:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ২,৮০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক-ঋণ জালিয়াতি মামলায় (Bank-fraud case) কলকাতার এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED arrests Kolkata-based businessman)। অভিযুক্ত প্রত্যুষ কুমার সুরেকাকে (৪০) শুক্রবার গ্রেফতার করা হয় এবং শনিবার তাঁকে চার দিনের জন্য ইডি হেফাজতে পাঠায় বিশেষ পিএমএলএ (PMLA) আদালত। দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্তে ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে জাল নথি তৈরির অভিযোগ, ভুয়ো ডিরেক্টর নিয়োগ এবং হাজার কোটি টাকা অন্যত্র সরানোর মতো বিস্তর বেনিয়ম।
সূত্রে জানা গেছে, এই মামলা মূলত শ্রী গণেশ জুয়েলারি হাউস লিমিটেডের-এর (SGJHIL) বিরুদ্ধে। সংস্থাটি এবং তার প্রোমোটাররা ২৫টি ব্যাঙ্ক মিলে গঠিত কনসোর্টিয়াম থেকে প্রায় ২,৬৭২ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছে, এমন অভিযোগেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালে আরেক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর (CBI) এফআইআরের ভিত্তিতেই ইডি (Enforcement Directorate) তদন্ত করছে।
কীভাবে টাকা সরাল সংস্থা?
ইডি জানিয়েছে, ২০১১-১২ সালে SGJHIL–কে দেওয়া বিপুল ঋণ গয়না ব্যবসার কাজে না লাগিয়ে ‘সোলার পাওয়ার’ প্রকল্পে বিনিয়োগের নামে অন্যত্র পাঠানো হয়। এই কাজের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উঠে এসেছে Alex Astral Power Pvt. Ltd.–এর নাম। ২০১২ সালের এপ্রিলে প্রত্যুষ (Pratyush Kumar Sureka) সংস্থার জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর হন। এরপর থেকেই সামনে আসে নানারকম জালিয়াতির অভিযোগ-
ইডির তদন্তকারীদের দাবি, এসবের মাধ্যমে অ্যাস্ট্রাল গ্রুপের বিভিন্ন সংস্থার কোটি কোটি টাকা ভুয়ো খরচ দেখিয়ে এবং বানানো লোনের মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
থাইল্যান্ড পালানোর আগেই ধরা
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে আরও জানা যায়, কলকাতার ব্যবসায়ী প্রত্যুষের (Pratyush Kumar Sureka) বিরুদ্ধে গত ৫ জানুয়ারি একটি লুক আউট নোটিস (Look Out Circular) জারি করা হয়েছিল। শুক্রবার তিনি থাইল্যান্ড যাওয়ার জন্য কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছতেই তাঁকে আটক করা হয়।
রিয়েল এস্টেট জালিয়াতির আরেক মামলা
এদিকে অপর একটি মামলায় ইডি জানিয়েছে, হরিয়ানা–রাজস্থানজুড়ে প্রকল্প চালানো Piyush Group-এর বিরুদ্ধে বিশাল প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে। ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সংস্থাটি বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের নামে ৬০০ কোটির বেশি টাকা সংগ্রহ করলেও প্রতিশ্রুতি মতো বাড়ি হস্তান্তর করতে পারেনি।
অভিযোগ-
সংস্থাটির দুই মূল কোম্পানি এখন CIRP–এ, ফরেনসিক অডিটেও ব্যাপক ফান্ড ডাইভারশনের প্রমাণ মিলেছে।
কয়েক সপ্তাহ আগেই কয়লা পাচার মামলায় তৃণমূলের ভোট কুশলী সংস্থা আই প্যাকের অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি (I PAC ED Raid)। সেই ঘটনার জল গড়িয়েছে অনেক দূর। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ইডি-র বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ এনেছেন। পাল্টা ইডি আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে। মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। এই বিস্তর বিতর্কের মধ্যেই আর্থিক জালিয়াতি মামলায় সক্রিয় তদন্তকারীরা।