ইডির এই অভিযানের ছবি মনে করিয়ে দিচ্ছে '২২ সালের জুলাই মাসে পশ্চিমবঙ্গে হওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়–অর্পিতা মুখোপাধ্যায় মামলার সেই দিন-রাত এক করা তল্লাশির কথা।

ওড়িষায় উদ্ধার হওয়া টাকা ও পার্থ-অর্পিতা
শেষ আপডেট: 17 January 2026 21:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশার (Odisha) গঞ্জাম জেলায় অবৈধ বালি ও কালো পাথর উত্তোলন–বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) সাম্প্রতিক অভিযানে ফের সামনে এল বিপুল অঙ্কের কালো টাকার ছবি। ভুবনেশ্বর জোনাল অফিসের নেতৃত্বে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ) অনুযায়ী জেলার একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালিয়ে আলমারি ও স্টিলের ক্যাবিনেট থেকে উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকা। সঙ্গে মিলেছে বেনামি বিলাসবহুল গাড়ি, স্থাবর সম্পত্তির নথি, খনির লিজ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক দলিল। ইতিমধ্যেই সেগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডির এই অভিযানের ছবি মনে করিয়ে দিচ্ছে '২২ সালের জুলাই মাসে পশ্চিমবঙ্গে হওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়–অর্পিতা মুখোপাধ্যায় (Partha Chatterjee Arpita Mukherjee) মামলার সেই দিন-রাত এক করা তল্লাশির কথা। ২২ জুলাই টালিগঞ্জের ডায়মন্ড সিটি আবাসনে অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল নগদ ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা, সঙ্গে ৫৬ লক্ষ টাকার বিদেশি মুদ্রা ও ৭৬ লক্ষ টাকার সোনার গয়না। ওই ঘটনার পরেই ইডি ইঙ্গিত দিয়েছিল, তদন্ত এগোলে আরও কয়েক গুণ সম্পত্তির হদিস মিলতে পারে।
সেই আশঙ্কাই সত্যি হয় পাঁচ দিনের মাথায়। বেলঘরিয়ার ‘ক্লাব টাউন হাইটস’-এ অর্পিতার নামে থাকা দু’টি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ইডি (ED)। একটি ফ্ল্যাট থেকে তেমন কিছু না মিললেও, অন্য ফ্ল্যাটে ঢুকে তদন্তকারীরা কার্যত হতবাক হয়ে যান। শোবার ঘর ও শৌচালয় মিলিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ৪ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার সোনা— যার মধ্যে ছিল সোনার বাট, হার, কাঁকন, ঘড়ি ও কলম।
টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়া মিলিয়ে অর্পিতার ফ্ল্যাটগুলি থেকে মোট নগদ ৫০ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা এবং ৫ কোটি ৭ লক্ষ টাকার সোনার গয়না উদ্ধার করে ইডি। অর্থাৎ টাকা ও সোনা মিলিয়ে মোট উদ্ধারকৃত সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৫ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও একাধিক সম্পত্তির নথির খোঁজ পেয়েছে ইডি।
গঞ্জামের সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা ও সম্পত্তির বহর এখনও চূড়ান্ত ভাবে প্রকাশ না পেলেও, সেখানকার বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ পার্থ–অর্পিতা মামলার সঙ্গে মোটেই তুলনীয় নয়। দু'টি ক্ষেত্রেই একই ছবি দেখা গিয়েছে বটে, কিন্তু বঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির ব্যাপকতা, ওড়িশায় অভিযানকে ছাপিয়ে উঠতে পারেনি।
ইডি সূত্রের দাবি, এক্ষেত্রে একটি আলমারি থেকেই প্রায় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত হিসাব ও বিস্তারিত তথ্য অভিযান শেষের পর প্রকাশ করা হবে। অভিযানে গঞ্জাম জেলা বিজেডি-র এক নেতার নামও উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ১০০ জন আধিকারিক নিয়ে পাঁচটির বেশি ইডি দল এই অভিযানে অংশ নিয়ে শনিবারও তল্লাশি চালাচ্ছে। এখন দেখার শেষ অবধি টাকার অঙ্কটা পার্থঘনিষ্ঠ অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া নগদকে টেক্কা দিতে পারে কিনা।