নদিয়ার বিজেপি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর। ইডির মোবাইল চুরি থেকে আরজি কর প্রসঙ্গ, ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ।

মমতা- শুভেন্দু
শেষ আপডেট: 16 January 2026 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডি আধিকারিকের মোবাইল চুরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! নদিয়ার প্রতিবাদ সভা থেকে ইডির আইনজীবীর কথা তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর দাবি, ইডি (ED)-র আইনজীবী নিজেই এই কথা বলেছেন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। আসলে তৃণমূল মানেই চুরি- চোখ চুরি, বালি-পাথর চুরি। কয়েকদিন আগে ফাইল চুরি ও এখন মোবাইল।
শুভেন্দুর সঙ্গে এদিন প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ সরকার (Jagannath Sarkar), অসীম সরকার (Asim Sarkar), অসীম বিশ্বাস (Asim Biswas)-সহ দলের একাধিক নেতা। এছাড়াও ছিলেন বঙ্কিম ঘোষ (Bankim Ghosh), পার্থসারথী চ্যাটার্জি (Parthasarathi Chatterjee), ত্রিপুরার যুব মোর্চার সভাপতি সুশান্ত দেব (Sushanta Deb) ও অন্যান্য বিশিষ্টরা। তাঁরাও একে একে রাজ্যের শাসক দলকে তুলোধনা করেন বিভিন্ন ইস্যুতে।
ওঠে আরজি কর (RG Kar) প্রসঙ্গ। বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গর্জে ওঠেন বিরোধী দলনেতা। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আরজি কর কাণ্ডে এখনও বিচার হয়নি। বিজেপি এলে বিনীত গোয়েল (Binit Goel), সন্দীপ ঘোষ (Sandip Ghosh) সবাইকে জেলে ঢোকানো হবে।” আরও এক ধাপ এগিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের আদালতে তোলা হবে না। সকালে ওঠাব, বিকেলে খরচ করে দেব।”
রাজ্যে খুন, ধর্ষণ, চুরি, নারী নির্যাতন এবং এসআইআর (SIR) নিয়ে ‘মিথ্যাচার’-এর প্রতিবাদে এদিন নদিয়ায় এই সভার আয়োজন করে বিজেপি (BJP)। মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা শুরু হয়ে যায়। শুভেন্দুর ভোকাল টনিকের জন্য প্রায় দুপুর থেকে অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। শুভেন্দু উঠতেই রোহিঙ্গা ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গ আসে।
তিনি বলেন, 'রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে। আসলে বিজেপির কোনও মাথাব্যথা নেই প্রার্থী তালিকা নিয়ে। মাথাব্যথা আছে তৃণমূল আর নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)। রোহিঙ্গারা না থাকলে তো প্রার্থী তালিকা বেরোবে না, সরকারই বা তৈরি হবে কী করে?”
এদিকে বেলডাঙায় মহিলা সাংবাদিক নিগ্রহের বিষয়টি ওঠে তাঁর ভাষণে। দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করেন। এরপরই ওঠে মোদী ও টাটা প্রসঙ্গ। বিজেপি এলে টাটা হবে বলে ফের আশ্বাস দেন শুভেন্দু।
তৃণমূলের সঙ্গে সিপিআইএম (CPIM)-কেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি। সাড়ে পাঁচ শতাংশ ভোট পেয়ে তারা নাকি এরাজ্যে তৃণমূলের বি-টিম হিসেবে কাজ করে।
বাংলাদেশ, ইউনুস ও হিন্দুদের বাঁচানো নিয়ে শুভেন্দুর দাবি, বিজেপিই একমাত্র হিন্দুদের পাশে আছে। বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নন, শরণার্থী বলে মনে করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর ভাষণে উপস্থিত জনতা অনেকাংশে সায় দেয়। ভোটের ময়দানে এর গুরুত্ব যথেষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে, এর প্রভাব ভোট বাক্সে পড়বে কি না তা সময় বলবে।