বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, “ঝোপঝাড়ের আড়ালেই মদের আসর বসে বলে বহুবার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, ক্যাম্পাসে নিয়মিত মাদক সেবনের মতো ঘটনাও ঘটে। তাই এই সাফাই শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, নিরাপত্তার অঙ্গ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 17 September 2025 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। ৪ নম্বর গেট লাগোয়া ঝিল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধারের পর (Jheel incident) একের পর এক প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ছাত্রদের গতিবিধি, এমনকি ক্যাম্পাসে মাদক সেবনের মতো (Drug use on campus) স্পর্শকাতর বিষয় নিয়েও। এবার সেই আবহেই ঝোপঝাড় সাফ করতে উদ্যোগী হল যাদবপুর কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে থাকা ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার ডাকা হয়েছে। টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিন ২২ সেপ্টেম্বর। এরপর শুরু হবে সাফাই অভিযান। কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য, ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণা পরিষ্কার না করা পর্যন্ত থামা নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, “ঝোপঝাড়ের আড়ালেই মদের আসর বসে বলে বহুবার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, ক্যাম্পাসে নিয়মিত মাদক সেবনের মতো ঘটনাও ঘটে। তাই এই সাফাই শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, নিরাপত্তার অঙ্গ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস লাগোয়া ঝিল থেকে উদ্ধার হয় অনামিকা মণ্ডলের দেহ। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কিং লটে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানেই মদ্যপান চলছিল কি না, তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। অনামিকার মৃত্যু ঘিরে শুধুই নয়, ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রদের নির্দ্বিধায় মাদক সেবনের অভিযোগে সরব হয়েছেন প্রাক্তনী থেকে অভিভাবক— অনেকেই।
এই ঘটনার পরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপে এগোচ্ছে। ঝোপঝাড় সাফ করার পাশাপাশি আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত হল ছাত্রদের উপর নজরদারি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার থেকে ২০ জন ছাত্রছাত্রীর উপর নজর রাখবেন একজন করে অধ্যাপক। তাঁদের আচরণ, মানসিক পরিস্থিতি এবং বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না— তা খতিয়ে দেখবেন সংশ্লিষ্ট প্রফেসররা।
তবে ক্যাম্পাসে সিসিটিভি বসানো নিয়ে এখনও মতবিরোধ বজায়। পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, “সিসিটিভি নজরদারি মানেই ক্যাম্পাস সংস্কৃতির গলা টিপে ধরা।” যদিও ছাত্রনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন বলেই মত অনেকের।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার করা, মদ-মাদক প্রতিরোধ, ছাত্রদের মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ— এই তিন দিকেই একসঙ্গে হাটতে চাইছে যাদবপুর প্রশাসন। অনামিকার মৃত্যুর পর ক্যাম্পাস যে আর আগের মতো নির্বিকার থাকছে না, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে পদক্ষেপে।