শুধু তাই নয়, অনুদান যাতে নিশ্চিতভাবে মেলে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলির কেউ কেউ ছুটছেন জনপ্রতিনিধি থেকে পুলিশকর্তাদের কাছে!

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 September 2025 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছরের মধ্যেই ভোল বদল!
গতবছর আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar movement) প্রতিবাদী হয়ে সরকারি অনুদান ফিরিয়ে দিয়েছিল বারাসতের একাধিক পুজো কমিটি (Durga Puja, Barasat)। আর সেই সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল ‘বিপ্লবী’ হিসেবেই। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পাল্টে গেল চিত্র।
এবারে রাজ্যের পুজো অনুদান পাওয়ার জন্য (Durga Puja Government Donation) সেই কমিটিগুলির অধিকাংশই লাইনে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, অনুদান যাতে নিশ্চিতভাবে মেলে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলির কেউ কেউ ছুটছেন জনপ্রতিনিধি থেকে পুলিশকর্তাদের কাছে!
গতবছর বারাসতের হেলাবটতলা, কলোনি মোড়-সহ একাধিক এলাকার ক্লাব অনুদান নিতে অস্বীকার করেছিল। রাজনৈতিক অভিসন্ধিই যে এর নেপথ্যে ছিল, তা মানছেন ওয়াকিবহল মহলের একাংশ। কিন্তু এ বছর অনুদানের অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ বিলের ৮০ শতাংশ ছাড়, ফায়ার লাইসেন্স ফি মকুব—সব মিলিয়ে রাজ্যের ঘোষণায় মোহিত উদ্যোক্তারা। ফলে, যাঁরা গতবছর বীরদর্পে ‘না’ বলেছিলেন, তাঁরাই এ বছর পুজোর আগে দৌড়চ্ছেন আবেদন জমা দিতে।
সূত্রের খবর, যেসব ক্লাব অনুদান ফিরিয়েছিল, তারাই এবার থানায় মুচলেকা জমা দিচ্ছে। সেখানে লেখা থাকছে, অনুদান ফেরানোর নানা যুক্তি—কারও দাবি, ক্লাব সদস্যের মৃত্যুতে টাকা ফেরানো হয়েছিল, কেউ বলছেন, বন্যা দুর্গতদের সাহায্যের জন্য। আসল কারণ আড়ালেই থাকুক, কিন্তু বার্তা স্পষ্ট—‘বিপ্লব’ শেষ, ভরসা এবার সরকারি দানের হাতেই।
বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “অনুদান বিতরণের সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে নেই, পুলিশই করে। তবে শুনেছি, গতবার যারা টাকা নেয়নি, তারাও এবার আবেদন করেছে।” জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, গতবার যেসব ক্লাব ফেরত দিয়েছিল, তাদের কয়েকটি ইতিমধ্যেই আবেদন জমা দিয়েছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে বারাসাত জুড়ে শোরগোল তৈরি হয়েছে। কটাক্ষের সুরে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কোথায় গেল সেই প্রতিবাদের আগুন? টাকা কি সত্যিই নিভিয়ে দিল বিপ্লবের শিখা?