শিক্ষক নিয়োগ থেকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি - ইডি এবং সিবিআইয়ের তদন্তে রাজ্যের শাসক দলের একাধিক প্রভাবশালী নাম ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। বালি পাচারের অভিযোগেও শাসক ঘনিষ্ঠদের হদিশ মিলেছে।

দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 10 September 2025 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩ দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে (North Bengal) গেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার জনসভা করবেন তিনি। বাংলার নির্বাচন আসতে এখনও বেশ কিছু মাস বাকি থাকলেও তাঁর এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) সেসব নিয়ে ততটা ভাবিত নন। বরং তাঁর খোঁচা - তৃণমূলের (TMC) বাকিরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।
বিজেপি নেতা বলছেন, তৃণমূল দলে এখন একটাই যোদ্ধা - মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বাকিরা এমন কাজ করে রেখেছে যে প্রশাসন নিয়ে কিছু করতে পারছেন না তিনি। তাই সবটা নিজেকেই সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। দিলীপ এও বলেন, পুরনো লোকেদের ধরে আসন্ন নির্বাচন জেতার চেষ্টায় রয়েছেন মমতা। তাই এত পরিশ্রম করছেন। এতে যদি তাঁর দল বাঁচে।
শিক্ষক নিয়োগ থেকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি - ইডি এবং সিবিআইয়ের তদন্তে রাজ্যের শাসক দলের একাধিক প্রভাবশালী নাম ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। বালি পাচারের অভিযোগেও শাসক ঘনিষ্ঠদের হদিশ মিলেছে। এক্ষেত্রেও অনুমান, কোনও না কোনও প্রভাবশালীর কাছে দুর্নীতির মোটা টাকা গিয়ে থাকতে পারে। তাই বলাই যায়, বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। আর এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করে মন্তব্য করেছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা।
সম্প্রতি মেদিনীপুরে (Medinipur) সৌরভ রায় নামের এক বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি (Search Operation) চালায় ইডি। সেই অভিযানেই বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হয় ৬৫ লক্ষ টাকা। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু নথি ও মোবাইল ফোনও। অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের (Gopiballavpur) নয়াবসানে জিডি মাইনিংয়ের কর্মী শেখ জহিরুল আলির বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় আরও ২৫ লক্ষ টাকা।
ইডি মনে করছে, লিজ নিয়ে একাধিক খাদান থেকে নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত বালি তোলা হয়েছে। এতে কোটি কোটি টাকার নয়ছয় হয়েছে বলে অভিযোগ। এখন প্রশ্ন উঠছে - এই বেআইনি মুনাফা ঠিক কার কার ঘরে পৌঁছেছে? যাদের বাড়ি থেকে টাকার পাহাড় মিলেছে শুধু তারাই লাভ করেছেন নাকি ঘুরপথে কোনও প্রভাবশালীর কাছে পৌঁছেছে সেই টাকা? এর পাশাপাশি কি কালো টাকা সাদা করার চক্রও চলছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।