মাকে মাসের পর মাস না দেখে খুদে মনে জমেছে অভিমান। তাই একদিন খাতার পাতায় পেন্সিল দিয়ে লিখে ফেলল, “আমার খুব কষ্ট হয় মাকে ছাড়া।"

মমতা দিদুনকে খোলা চিঠি ছোট্ট ঐতিহ্যের
শেষ আপডেট: 9 September 2025 09:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স মাত্র পাঁচ। অথচ মাকে কাছে না পাওয়ার যন্ত্রণা বুকের ভেতর জমে আছে দিনের পর দিন। উত্তর দিনাজপুরে প্রাথমিক শিক্ষিকা (Primary Teacher) হিসেবে কর্মরত মা স্বাগতা পাইনের থেকে দূরে থাকতে হয় ছোট্ট ঐতিহ্য দাশকে। আর সেই কষ্টের কথা কাগজে তুলে ধরে নিজের খুদে হাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Benerjee) খোলা চিঠি লিখল (Letter To Mamata Banerjee) ছোট্ট ছেলেটি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে (Chief Minister) সে সম্বোধন করেছে ‘প্রিয় দিদুন’ বলে।
ঐতিহ্যের বয়স যখন দু’বছর, তখনই মা চাকরি পান উত্তর দিনাজপুরের রহমতপুর এফপি স্কুলে। প্রথম দিকে সন্তানকে কর্মস্থলে সঙ্গে নিলেও, আবহাওয়ার কারণে সেখানে মানিয়ে নিতে পারেনি ঐতিহ্য। কয়েক মাসের মধ্যেই মাকে ছেড়ে আসানসোলে কর্মরত বাবার কাছে ফিরে যেতে হয় তাকে। এখন দাদু ও বাবার কাছে থেকেই পড়াশোনা শুরু করেছে ঐতিহ্য।

মাকে মাসের পর মাস না দেখে খুদে মনে জমেছে অভিমান। তাই একদিন খাতার পাতায় পেন্সিল দিয়ে লিখে ফেলল, আমার খুব কষ্ট হয় মাকে ছাড়া। আমি মাকে খুব ভালবাসি। মাকে যদি তাড়াতাড়ি বাড়ি পাঠাও, তবে আমি আবার তোমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লিখব।”
স্বাগতা পাইনের শ্বশুরবাড়ি বাঁকুড়ার ইন্দপুরের বনকাটি গ্রামে। তিনি জানান, ২০২১ সালের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে যাঁরা শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশকেই বাড়ি থেকে বহু দূরে কর্মরত থাকতে হচ্ছে। বারবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বদলির আবেদন জানালেও বিশেষ সাড়া মেলেনি।
তবে ছেলের এই আচরণ দেখে তিনিও অবাক। তাঁর কথায়, “ঐতিহ্যকে চিঠি লিখতে কেউ শেখায়নি। আমরা নিয়মিত আবেদনপত্র লিখি দেখে ওর মাথায় এসেছে হয়তো।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পৌঁছবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। তবুও খুদে ঐতিহ্যের এই খোলা চিঠি যেন শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি-আবেদনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, এই আবেগঘন আবেদন কতটা নড়ে বসায় প্রশাসনকে।
বস্তুত, আজ উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব ঠিকঠাক থাকলে আজ দুপুরে দমদম বিমানবন্দর থেকে বাগডোগরার উদ্দেশে তাঁর রওনা দেওয়ার কথা। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা সফর করে সেখানকার সমস্যা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মমতা। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরে সমাজকল্যাণ মূলক প্রকল্প বিতরণের কর্মসূচিও রাখা হবে।