অভিযোগ, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজারহাটের সিখের বাগানের বাসিন্দা সুনীতকুমার রায়ের কাছে ফোন আসে। নিজেকে ‘পুলিশ অফিসার’ পরিচয় দিয়ে বলা হয়—সুনীত নাকি কাউকে আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে হিউম্যান ট্র্যাফিকিং-এর মামলা রুজু হয়েছে!

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 25 November 2025 20:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest)—নতুন আতঙ্কে কাঁপছে রাজ্য। কখনও পুলিশ, কখনও ইডি, কখনও সিবিআই—সাইবার অপরাধীরা নিত্যনতুন পরিচয় নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে কেড়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। রাজারহাটে (Rajarhat) আবারও সেই একই ছক। ভয় দেখিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ( Fraud of RS 1.5 crore) অবশেষে বড় সাফল্য নারায়ণপুর থানার।
অভিযোগ, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজারহাটের সিখের বাগানের বাসিন্দা সুনীতকুমার রায়ের কাছে ফোন আসে। নিজেকে ‘পুলিশ অফিসার’ পরিচয় দিয়ে বলা হয়—সুনীত নাকি কাউকে আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে হিউম্যান ট্র্যাফিকিং-এর মামলা রুজু হয়েছে! এমনকি, গ্রেফতারির পরোয়ানাও নাকি জারি। আরও ভয় ধরাতে তাঁকে যুক্ত করা হয় একটি ভিডিয়ো কলে, যেখানে দেখানো হয় নকল কোর্টরুম, নকল অফিসার—পুরোটা সাজানো নাটক।
চাপে পড়ে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন সুনীত। পরে বুঝতে পারেন, পুরো ঘটনাই প্রতারণা। অভিযোগ দায়ের হতেই নড়ে বসে নারায়ণপুর থানার পুলিশ।
বিধাননগর কমিশনারেটের তদন্তকারী দল অভিযান চালায় কর্ণাটকের মাইসুরুতে। সেখান থেকে চক্রের দুই মূল পাণ্ডা—নবীন আর (৩৫) এবং ইন্দ্রধনুষ জে (৩৩)-কে গ্রেফতার করা হয়। দু’জনই স্থানীয় নরসিমহা রাজা মহল্লার বাসিন্দা। মাইসুরুর আদালত থেকে পাঁচ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে এনে তাঁদের ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, এই দু'জনকে ব্যবহার করলেও পেছনে রয়েছে আরও বড় নেটওয়ার্ক। টাকা কোথায় গেল, কারা কারা যুক্ত—সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই কৌশলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতারণা চলছে বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের।
বিধাননগর কমিশনারেটের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণায় তিনটি ধাপ থাকে—প্রথমে ভয় দেখানো, তারপর নকল অফিসার বা কোর্টরুম দেখিয়ে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি, শেষে কেস মেটানোর নামে টাকা আদায়। কোনও সরকারি সংস্থা ফোন বা ভিডিও কলে কাউকে গ্রেফতার করে না।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “এমন ফোন এলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় জানান। কিন্তু মানুষ এখনও ভুল করছেন।”
ডিজিটাল প্রতারণার জাল যত ছড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ। পুলিশের পরামর্শ—অপরিচিত ফোনে ভয় নয়, সতর্কতায় একমাত্র ঢাল।