Dharmatala bus depot shift: বৃহস্পতিবার থেকেই সেখান থেকে শুরু হবে বাস পরিষেবা। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাস ছাড়বে এই ডিপো থেকে। যাত্রীদের জন্য থাকছে বাতানুকূল অপেক্ষাগৃহও।

ধর্মতলা বাস ডিপো
শেষ আপডেট: 19 February 2026 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মতলার (Esplanade) চেনা ছবিতে বদল। এসপ্ল্যানেড স্টেশন (Esplanade Station) ও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের (Rani Rasmani Avenue) মাঝের অংশে তৈরি হল নয়া সরকারি বাস ডিপো (Dharmatala Bus Depot)। বৃহস্পতিবার থেকেই সেখান থেকে শুরু হবে বাস পরিষেবা। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাস ছাড়বে এই ডিপো থেকে। যাত্রীদের জন্য থাকছে বাতানুকূল অপেক্ষাগৃহও।
কেন সরল পুরনো ডিপো?
জোকা–এসপ্ল্যানেড মেট্রো (Joka Esplanade) করিডরের কাজের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ধর্মতলার পুরনো বাস ডিপো। ওই অংশে ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন তৈরির কাজ করছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)। বাস ডিপো না সরালে কাজ এগোনো কার্যত অসম্ভব ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তারা।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই পূর্ব–পশ্চিম মেট্রোর এসপ্ল্যানেড স্টেশনের জোড়া প্রবেশপথ এবং রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের মাঝামাঝি অংশে তৈরি করা হয়েছে এই নতুন ডিপো। ডিপো সরে যাওয়ায় মেট্রোর কাজ গতি পাবে বলেই আশা।
যান নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পর্যবেক্ষণ
নতুন ডিপোতে বাসের ঢোকা ও বেরোনোর পথ, দু’টিই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের ধর্মতলামুখী লেনে। ফলে যান নিয়ন্ত্রণ কীভাবে হবে, তা খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুলিশের তরফে সময় চাওয়া হয়েছিল। সেই কারণেই গত ডিসেম্বর থেকে ডিপো সরানোর জল্পনা চললেও পুরো প্রক্রিয়া মাস দেড়েকের বেশি দেরি হয়।
দিনে শতাধিক দূরপাল্লার বাস
পুরনো ডিপো থেকে সারা দিনে বিভিন্ন রুটে একশোরও বেশি দূরপাল্লার বাস ছাড়ত। দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম, কলকাতা ট্রাম কোম্পানি এবং রাজ্য পরিবহণ নিগমের বাস চলত সেখান থেকে। বিশেষ করে সন্ধ্যায় শিলিগুড়িগামী নন-এসি ও এসি ভলভো বাস ছাড়ত উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের তরফে।
কী কী থাকছে নতুন ডিপোতে?
মন্ত্রীদের বক্তব্য
পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, “জনগণের সুবিধা-অসুবিধা মাথায় রেখেই আমরা কাজ করেছি। মেট্রোর কাজ ধীরগতির হলেও আমাদের দফতর প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিকাঠামো তৈরি করে দিয়েছে। সামান্য জমি দেওয়ার জন্য মেট্রো কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।”
অন্য দিকে, কলকাতা মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এসএস কান্নান জানান, কিছু মেট্রো প্রকল্প দেরি হয়েছে। বাস স্ট্যান্ড সরে যাওয়ায় কাজ এগোবে। তবে বিসি রায় মার্কেট সরবে কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
যাত্রীদের প্রত্যাশা
নতুন ডিপো নিয়ে আশাবাদী সাধারণ যাত্রীরাও। এক যাত্রীর কথায়, “এতে সবারই সুবিধা হবে বলে মনে হচ্ছে।” ধর্মতলার ব্যস্ততার মাঝে এই পরিকাঠামোগত রদবদল কতটা স্বস্তি আনে, আর মেট্রোর কাজ কত দ্রুত এগোয়— এখন সেদিকেই নজর শহরবাসীর।