তাঁদের আটকাতে মাঝ রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়, বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে উপস্থিত রয়েছে। আশা কর্মীরা ব্যারিকেড টপকে-ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

শেষ আপডেট: 21 January 2026 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময় যত এগোচ্ছে, আশাকর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান (Asha Workers Swasthya Bhawan Abhijan) ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। মঙ্গলবার বৈঠকের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁরা ধর্মতলায় বিক্ষোভ (Dharmataka Protest) কর্মসূচির উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু তাঁদের আটকাতে মাঝ রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়, বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে উপস্থিত রয়েছে। আশাকর্মীরা ব্যারিকেড টপকে-ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
২১ জানুয়ারি, বুধবার আশাকর্মীদের পূর্ব ঘোষিত স্বাস্থ্য ভবন অভিযান (Asha Workers Swasthya Bhawan Abhijan) ছিল। কিন্তু এদিন সকাল থেকেই এই কর্মসূচি ঘিরে রাজ্যজুড়ে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্বাস্থ্যভবনের সামনে যেসকল আশাকর্মীরা পৌঁছেছিলেন তাঁদেরও অভিযান শুরু আগেই আটক করা হয়। সকাল ১১টায় বৈঠকের সময় নির্ধারিত ছিল। তা পেরিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলনকারী আশাকর্মীরা ধর্মতলায় অবস্থান বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আগে থেকেই সেখানে অন্য একটি কর্মসূচি থাকায় পুলিশ অনুমতি দেয়নি।
পুলিশের বারণ উপেক্ষা করেই শ'য়ে শ'য়ে আশাকর্মীরা ধর্মতলার দিকে যায়। কিন্তু মূল জায়গার আগেই রাস্তার মোড়ে ব্যারিকেড ও বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে তাঁদের আটকানোর চেষ্টা চলছে। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি-হাতাহাতি শুরু হয়। মাইকিংয়ে 'আলোচনার বার্তা' দিচ্ছে পুলিশ।
পুলিশের তরফে আরও বলা হয়, 'ধর্মতলার কর্মসূচি ছিল না, কোনও অনুমতি নেই। এদিকে স্বাস্থ্যভবন নয়। ভুল রাস্তা এটা। বসলে আলোচনা হবে।'
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যভবন চত্বরেও ছবিটা প্রায় এক (Asha Workers Swasthya Bhawan Abhijan)। পুলিশের ৬ ফুট উঁচু ব্যারিকেডের সামনেই জমায়েত করেছেন বহু আশাকর্মী। আন্দোলনকারীদের স্লোগান উঠছে, 'পুলিশ দিয়ে আটকানো যাবে না।' পাশাপাশি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি না এলে এই আন্দোলন থামবে না বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁরা।
আশাকর্মীদের (Asha Workers) দাবি, গত ১৫ তারিখ তাঁরা সময় চেয়েছিলেন কিন্তু স্বাস্থ্য সচিব জানান তিনি ছুটিতে থাকবেন। তাই ২১ তারিখ আসতে বলা হয়েছিল। সেইমতোই আজ স্বাস্থ্যভবন অভিযান কর্মসূচি নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
দূর দূর থেকে যেসকল আশাকর্মীদের আসার কথা ছিল, তাঁদের স্টেশনেই আটকানো হয় বলে অভিযোগ। এমনকি ট্রেনে উঠলে জোর করে নামিয়ে দেওয়াও হয়েছে। এরফলে অনেকেই কলকাতায় আসতে পারেননি। তবে তাঁরা সেই স্টেশনে বসেই বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
শিয়ালদহ স্টেশনে (Sealdah Station Asha Workers) আশা কর্মীদের একটি দল এসে পৌঁছালে জিআরপি (GRP) ও পুলিশ বাইরে বেরোতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। ফলে সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন তাঁরা। সেক্টর ফাইভ এলাকায় পৌঁছে যান আশা কর্মীদের একাংশ। কিন্তু স্বাস্থ্যভবনের অদূরেই তাঁদেরকে আটক করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের টেনে হিঁচড়ে তোলা হয় বাসে।
টানা কয়েকঘণ্টা পর শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে ধর্মতলার দিকে যাচ্ছিলেন আশাকর্মীরা। সেখানেও আবার বাধার মুখে পড়তে হল।
গত সপ্তাহেই বেতনবৃদ্ধি-সহ মোট আট দফা দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করেন আশা কর্মীরা (Asha Workers Swasthya Bhawan Abhijan)। দুপুরের ব্যস্ত সময় কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল স্বাস্থ্য ভবন চত্বর। একাধিক দায়িত্ব কাঁধে অথচ মাসিক আয় অত্যন্ত কম, এই অভিযোগই মূলত আন্দোলনের কেন্দ্রে। আশা কর্মীদের দাবি, বর্তমানে তাঁদের ইনসেনটিভ মিলিয়ে মাসে সর্বোচ্চ ৫,২৫০ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না। অথচ কাজের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।
সেই কারণেই ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক পারিশ্রমিক প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা (Health Insurance), মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) এবং মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ (Death Compensation) চালুর দাবিও রয়েছে আন্দোলনকারীদের।
তবে এদিনই কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার এবং আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আশাকর্মীরা। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।