আরজি কর দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) আখতার আলির বিরুদ্ধে হাজিরা না দেওয়ার অভিযোগে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন বিচারক।
.jpeg.webp)
আখতার আলি
শেষ আপডেট: 9 February 2026 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরেও আদালতে অনুপস্থিত আখতার আলি (Akhter Ali RG Kar)। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে (RG Kar) আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সোমবারও আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে তাঁর দেখা মেলেনি। আত্মসমর্পণের (Surrender) নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও হাজিরা না দেওয়ায় মামলার ভবিষ্যৎ গতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হল।
আরজি কর দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) আখতার আলির বিরুদ্ধে হাজিরা না দেওয়ার অভিযোগে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন বিচারক। সেই পরোয়ানা জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি আদালত চত্বরে এলেও আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিতে পারেননি। আইনজীবী না থাকায় শনিবার আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, সোমবার ফের আদালতে আসবেন।
কিন্তু সোমবারও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হল না। সকাল ১১টা বেজে গেলেও আখতারের দেখা মেলেনি। তাঁর অপেক্ষায় আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা। অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে ফের অচলাবস্থা তৈরি হয়।
প্রসঙ্গত, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত চলাকালীনই সামনে আসে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। সে সময় কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ তোলেন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত।
তবে তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই ছবিটা বদলেছে। সিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, অভিযোগকারী আখতার আলিও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ে আদালতে। এরপর একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও আদালতে হাজিরা দেননি তিনি।
এর মধ্যেই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন আখতার। জানা যায়, কোমরের ব্যথায় তিনি কাবু। চিকিৎসকেরা বিশ্রাম নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। হাসপাতাল থেকে আখতার দাবি করেন, তিনি কোনও দুর্নীতিতে যুক্ত নন। তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। কারণ, সরকারি মেডিক্যাল কলেজের দুর্নীতিবাজদের মুখোশ খুলে দিয়েছেন তিনি।
আখতার বলেন, ‘‘আমি নির্দোষ। আরজি করে ধর্ষণ-খুন হয়েছিল ২০২৪-এ। সন্দীপ ঘোষ অধ্যক্ষ হয়েছিলেন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। আমার দাদা অসুস্থ ছিলেন ২০২০ সালে। সেই সময় অসুস্থ দাদার চিকিৎসার জন্য টাকা ধার নিয়েছিলাম। দাদাকে বাঁচাতে পারিনি। এখন সেই সব টেনে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বলা হচ্ছে।’’
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত অধরা অভিযুক্ত। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বারবার অনুপস্থিত থাকায় আখতার আলিকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনাচ্ছে।