শুক্রবার আখতারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল সিবিআইয়ের (CBI) বিশেষ আদালত।

আখতার আলি
শেষ আপডেট: 7 February 2026 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার শেষ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতাল থেকে আলিপুরে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে হাজির হলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar Medical College) প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি (Akhtar Ali)।
এর আগের দিন, শুক্রবার আখতারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল সিবিআইয়ের (CBI) বিশেষ আদালত। সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার আদালতে হাজির হন তিনি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালত কক্ষ থেকে ফিরে যেতে হয় তাঁকে।
আদালতে ঢোকার সময় আখতার দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, যে আর্থিক লেনদেনের কথা বলা হচ্ছে, তা আসলে দাদার চিকিৎসার জন্য ধার নেওয়া টাকা। তাঁকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের (Sandip Ghosh) বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন আখতার।
যদিও শনিবার আদালতে হাজির হলেও সঙ্গে কোনও আইনজীবী ছিলেন না তাঁর। এমনকি আগাম ভাবে আদালতকেও তাঁর আসার কথা জানানো হয়নি। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সাড়ে ১২টার মধ্যে বিচারকক্ষ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আত্মসমর্পণের সুযোগ আর হয়নি। আখতার বলেন, ‘‘আমি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ছিলাম। মোবাইলও সঙ্গে ছিল না। তাই আদালত কখন বন্ধ হবে, তা জানা ছিল না। আজ এসে দেখলাম আদালত বন্ধ। সোমবার আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। সে দিনই করব। গ্রেফতার হলে সেটাও মেনে নেব।’’
প্রসঙ্গত, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত চলাকালীনই সামনে আসে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। সেই সময় কলেজের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন তৎকালীন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত এবং পরে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যিনি অভিযোগ তুলেছিলেন, সেই আখতার নিজেও আর্থিক অনিয়মে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা পড়েছে। কিন্তু একাধিক বার সমন পাঠানো সত্ত্বেও আদালতে হাজির হননি তিনি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন কলকাতা হাই কোর্টে। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত।
এর পরই শুক্রবার আলিপুরের সিবিআই বিশেষ আদালত আখতারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়। তার এক দিন আগেই, বৃহস্পতিবার রাতে কোমরের যন্ত্রণার কথা জানিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশ্রামে ছিলেন তিনি। হাসপাতাল থেকেই দাবি করেন, কোনও দুর্নীতিতে তিনি যুক্ত নন এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজে দুর্নীতির পর্দাফাঁস করায় তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে।
শনিবার আদালতে হাজির হয়েও সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার। এখন নজর সোমবারের দিকে। আদৌ তিনি আত্মসমর্পণ করেন কি না সেটাই প্রশ্ন।