আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে সিবিআই ইতিমধ্যেই একাধিক চার্জশিট জমা দিয়েছে। শেষ অতিরিক্ত চার্জশিটে আখতারের নাম যুক্ত হয়।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 6 February 2026 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির (RG Kar Corruption)পর্দা প্রথম সরিয়েছিলেন তিনিই। সেই আখতার আলির (Akhtar Ali) বিরুদ্ধেই এ বার গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest warrant) জারির নির্দেশ দিল আলিপুরের সিবিআই আদালত। একাধিক বার সমন জারি সত্ত্বেও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় শুক্রবার এই নির্দেশ দেন বিচারক।
আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে সিবিআই ইতিমধ্যেই একাধিক চার্জশিট জমা দিয়েছে। শেষ অতিরিক্ত চার্জশিটে আখতারের নাম যুক্ত হয়। সিবিআইয়ের অভিযোগ, হাসপাতালের আর্থিক অনিয়মে তিনি প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত ছিলেন। অথচ বার বার আদালতে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন আখতার। উল্টে আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তবে সম্প্রতি সেই আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।
শুক্রবার আলিপুর আদালতে আখতারের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেল অসুস্থ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেই কারণেই আদালতে হাজিরা দিতে পারছেন না। কিন্তু এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসক বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও হাসপাতালে ভর্তি থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সিবিআইয়ের তরফে আদালতে স্পষ্ট অভিযোগ করা হয়, ইচ্ছাকৃত ভাবেই অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে আদালতের নির্দেশ এড়াচ্ছেন আখতার। সেই মামলাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের পক্ষ। আর্থিক দুর্নীতির মামলায় তিনি বর্তমানে জেলবন্দি। তাঁর আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, একই অভিযোগে সন্দীপকে জেলে থাকতে হলে, আখতার কী ভাবে বার বার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেও ছাড় পেতে পারেন? এই প্রেক্ষিতেই আখতার আলির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয় আদালত।
সিবিআইয়ের চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, সন্দীপ ঘোষের আগেই আখতার আরজি কর হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আর্থিক অনিয়মে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় আরজি কর শিরোনামে উঠে আসতেই তিনি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তবে নিজের যোগসূত্র এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। শেষ পর্যন্ত সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এ বার গ্রেফতারির নির্দেশ!