“কান মুলে আদায় করবে সর্বোচ্চ আদালত। নজরদারির জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির কমিটিও গঠন করা হয়েছে। মমতার পালাবার আর জায়গা নেই।”
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 5 February 2026 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিএ (DA case) কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার, এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গেই বৃহস্পতিবার মাইলফলক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court verdict)। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। নির্দেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ এবং মে মাসের মধ্যে বাকি ৭৫ শতাংশ মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। এই রায়ের পরেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল রাজ্যে। বিশেষ করে বঙ্গ বিজেপির শিবিরে কার্যত উৎসবের আবহ, রাস্তায় নেমে মিষ্টি বিলি, স্লোগানে স্লোগানে মুখর রাজপথ।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সাংবাদিক বৈঠকের মাঝপথেই বক্তব্য থামিয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “হেরেছে, হেরেছে, মমতার সরকার (Mamata Banerjee) হেরেছে।” তাঁর দাবি, এই রায় অবশ্যম্ভাবীই ছিল। কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করায় সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মার্চের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দিতে হবে রাজ্যকে। বাকি ৭৫ শতাংশ মেটাতে হবে মে মাসের মধ্যে। অর্থাৎ এই সরকারের অক্ষমতার খেসারত পরের সরকারকে দিতে হবে।"
২৬ এর নির্বাচনে 'বিজেপিই ক্ষমতায় আসছে' দাবি করে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের প্রতি বিরোধী দলনেতার আশ্বাস, "বিজেপি সরকারে এলে সুপ্রিম কোর্টের রায় মর্যাদার সঙ্গে কার্যকর করা হবে (বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ)।”
শুভেন্দুর মতে, এ দিনের রায় শুধু আর্থিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও ‘মাইলফলক’। তাঁর ভাষায়, “রাজ্যের যে ষড়যন্ত্র, টালবাহানা—সবই সুপ্রিম কোর্ট ধুয়ে-মুছে সাফ করে দিয়েছে।”
কর্মচারীদের একাংশের আশঙ্কা, রাজ্য সরকার রিভিউ পিটিশন করে ফের সময় নষ্ট করতে পারে। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, “কান মুলে আদায় করবে সর্বোচ্চ আদালত। নজরদারির জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির কমিটিও গঠন করা হয়েছে। মমতার পালাবার আর জায়গা নেই।”
ডিএ রায়ের আবহে এসআইআর মামলা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। বুধবার শীর্ষ আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়ালের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “অনেক চ্যানেল কাল মমতাকে সুপ্রিম কোর্টে বিরাট নম্বর দিয়েছে। কিন্তু রেকর্ডে কোথায় তাঁর নাম? যেহেতু ওনার আইনজীবীরা বক্তব্য রেখেছিলেন, তাই ওর বক্তব্য অনরেকর্ড হয়নি। চা-দোকান বা ফোনে যেসব কথা বলা যায়, সেটাকেই সওয়াল-জবাব বলা যায় না। ওঁর বলা কথাগুলো ওই রকমই!”
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য, “রাজ্য সরকার এতদিন কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এটা মেলা-মোচ্ছবের সরকার, দায়িত্বজ্ঞানহীন শাসন।” দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ডিএ যে ন্যায্য অধিকার, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেটাই প্রমাণিত হল।”
সব মিলিয়ে, ডিএ রায়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপ বাড়ল নবান্নের উপর। শীর্ষ আদালতের কড়া সময়সীমা ও নজরদারির মাঝে এখন নজর—রাজ্য সরকার পরবর্তী পদক্ষেপে কোন পথে হাঁটে।