চলতি বছরের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন অতীন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২৯০ জন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 August 2025 09:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরে ডেঙ্গি (Dengue) পরিস্থিতি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুরসভা (KMC)। তবে ডেপুটি মেয়র এবং স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষের (Atin Ghosh) দাবি, এটা কোনও হঠাৎ উদ্যোগ নয়— বরং সারা বছরই এমন সতর্কতা ও তৎপরতা চালু থাকে। তবুও গত দু’সপ্তাহে ডেঙ্গিতে দু'জনের মৃত্যু হওয়ায় প্রশাসন আরও নজরদারির পথে হাঁটছে।
অতীন ঘোষ জানান, শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোথাও অযথা জল জমে বিপদ ডেকে আনছে কি না, তা নিয়ে সমীক্ষা চলছে। তাঁর কথায়, “কলকাতার জন্য যে পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তা বিরল। কিন্তু এখানে প্রায় ৪৫ লক্ষ মানুষের বাস। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৮ লক্ষ থাকেন বস্তিতে, যেখানে বালতি-গামলায় জল মজুত করার প্রবণতা বেশি। আর সেই জল জমলেই মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়।”
ইতিমধ্যেই যেসব ওয়ার্ডে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে, সেগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে ওয়ার্ড নম্বর ৬৬, ৬৭, ৬৯, ৭০, ৭৭, ৯৩ এবং ১০৮-এর কয়েকটি এলাকা— যেগুলিকে ডেঙ্গির ‘হটস্পট’ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
চলতি বছরের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন অতীন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২৯০ জন। গত বছর একই সময়ে সংখ্যা ছিল ২৫৫। আর ২০২৩ সালে ওই সময় পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৬৭২। ফলে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে, তবে ২০২৩-এর মতো চরম পরিস্থিতি এখনও হয়নি।
ডেপুটি মেয়রের আশঙ্কা, আগামী মাসে পুজো ঘিরে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। কারণ প্যান্ডেল তৈরির সময়ে বাঁশের মাথায় বা খুঁটির ফাঁকে বৃষ্টির জল জমে মশার বংশবিস্তার ঘটে। সেই কারণে প্রতিটি পুজো উদ্যোক্তার সঙ্গে আগাম বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা। এছাড়াও, এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে বহু মানুষ জ্বর-অসুখে ভুগছেন। ইমিউনিটি কম থাকায় মশার কামড়ে ডেঙ্গি সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা বাড়বে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
শুধু ডেঙ্গিই নয়, ম্যালেরিয়া নিয়েও উদ্বেগে রয়েছে পুরসভা। পরিসংখ্যান বলছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১,১৫৬ জন। গত বছর একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১,৩৫৮, আর ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছুঁয়েছিল ২,৮৮৮।