দিল্লিতে ভয়াবহ বায়ুদূষণে দমবন্ধ পরিস্থিতি। উত্তুরে হাওয়ার জোর না থাকায় কলকাতাতেও খারাপ হচ্ছে আবহাওয়া, শীতের শুরুতেই উদ্বেগে পরিবেশবিদ ও চিকিৎসকেরা।

বায়ুদূষণ (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 15 December 2025 09:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরে শীতের ঘাটতি থাকায় দূষণ বেড়ে চলেছে। ভোরের দিকে কলকাতার (Kolkata) বাতাস ক্রমশই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে বলে জানাচ্ছেন পরিবেশবিদরা (Environmentalists)। দক্ষিণবঙ্গের (South Bengal) একাধিক জেলায় শীতের কামড় টের পাওয়া গেলেও কলকাতায় সেই শীত এখনও পুরোপুরি ধরা দেয়নি। পুরুলিয়া (Purulia), বাঁকুড়া (Bankura)-সহ পশ্চিমের জেলাগুলিতে ঠান্ডায় কাঁপুনি রয়েছে কিন্তু শহরে শীতের আমেজ যথেষ্ট নয়, বলছেন আবহাওয়াবিদরা।
পরিবেশবিদ ড. স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী (Dr Swati Nandi Chakraborty) এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কলকাতায় শীতের ভাব থাকলেও ডিসেম্বরের চেনা কনকনে ঠান্ডা অধরা। তার উপর উত্তুরে হাওয়ার (North Wind) জোর নেই এবার। ফলে বাতাসে ধূলিকণা (Dust Particles) বেশি করে জমছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় যানবাহনের চাপ (Vehicular Load) বেশি, সেখানে বাতাস আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে।
শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ার (Dry Weather) কারণে ধূলিকণার পরিমাণ সাধারণত একটু বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর কলকাতায় সেই মাত্রা অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে ভিক্টোরিয়া (Victoria) ও ময়দান (Maidan) এলাকায় বাতাসের স্বাস্থ্য ভাল নয়। ভোরের দিকে এই সব অঞ্চলে বাতাসের গুণমান সূচক (Air Quality Index) পৌঁছে যাচ্ছে ১৪৬-এ। ড. স্বাতী নন্দী চক্রবর্তীর কথায়, ভোরে যে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, তা আসলে ধোঁয়াশা (Smog)। ধূলিকণা জমেই এটা তৈরি হচ্ছে। উত্তুরে হাওয়ায় জোর থাকলে এই ধূলিকণাগুলি সরে যায়। কিন্তু হাওয়ার জোর না থাকায় সেগুলি একটি এলাকাতেই আটকে থাকছে। শীতে শিশির (Dew) পড়লে ধূলিকণার সঙ্গে মিশে বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হয়। কিন্তু শীতের খামখেয়ালিপনায় এবার শিশিরও ঠিকমতো পড়ছে না।
দিল্লির (Delhi) দূষণমাত্রা যেখানে ৪০০-র উপরে, সেখানে কলকাতার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভাল হলেও তা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি। সাধারণত শহরে বাতাসের গুণমান সূচক ৭০ থেকে ৮০-এর মধ্যে থাকাই ভাল ধরা হয়। কিন্তু পরিবেশবিদদের দাবি, এখন কলকাতায় দিনে দিনে ২৫০ একিউআই (AQI) ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরাও সতর্ক করছেন। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar Medical College) পালমোনারি মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ডাঃ সুস্মিতা কুণ্ডু (Dr Susmita Kundu) এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, খুব ভোরে শীতে প্রাতঃভ্রমণে (Morning Walk) না বেরনোই ভাল। তাঁর কথায়, শীতকালে ভোরে মাটির কাছের বাতাস ঠান্ডা ও ভারী হয়ে থাকে। ফলে দূষণকণা উপরের দিকে উঠতে পারে না। ঘন কুয়াশা সেই দূষণকণাগুলিকে ধরে রাখে। তার উপর শীতে কাঠকয়লা (Charcoal) পোড়ানোও বাড়ে। সব মিলিয়ে ভোরের বাতাসে ক্ষতিকারক দূষণকণার পরিমাণ থাকে মাত্রাছাড়া।
চিকিৎসকের পরামর্শ, ভোর পাঁচটা বা সাড়ে পাঁচটায় নয়, একটু রোদ ওঠার পর প্রাতঃভ্রমণে বের হন। ভোরে বেরোতে হলে মাস্ক (Mask) ব্যবহার করুন।
আরেক পরিবেশবিদ জানান, রবীন্দ্র সরোবর (Rabindra Sarobar)-এর মতো এলাকাতেও এখন দূষণমাত্রা লাগামছাড়া। সকালে বর্জ্য পোড়ানো (Waste Burning), লেক চত্বরে দোকান বেড়ে যাওয়া এবং মেট্রোর কাজের (Metro Work) জেরে ভিক্টোরিয়া ময়দান অঞ্চলে দূষণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। সন্ধে থেকে ভোর পর্যন্ত দূষণমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। শীতে বাতাসে আর্দ্রতা (Humidity) কম থাকলেও সাধারণত রাতে শিশির পড়ে ধূলিকণা জলে পরিণত হয়। কিন্তু এবার শিশির না পড়ায় ধূলিকণাগুলি জমে ধোঁয়াশা তৈরি করছে। এই ধোঁয়াশা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।