বেহালার ঠাকুরপুকুরে চাঞ্চল্য! স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ করে রাগের মাথায় পাথর দিয়ে মাথা ও মুখ থেঁতলে দিলেন ব্যক্তি। তারপর রক্তমাখা জামা পরে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি (এআই দিয়ে তৈরি)
শেষ আপডেট: 2 November 2025 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছরের পর বছর ধরে দাম্পত্যে টানাপোড়েন, অবিশ্বাস, সন্দেহ, শেষমেশ সব মিলিয়ে রক্তাক্ত পরিণতি। ঠাকুরপুকুরের আনন্দনগরে স্ত্রী কাজল বালার ওপর চড়াও হলেন মিলন বালা। পাথর দিয়ে মাথা ও মুখ থেঁতলে দেন। তারপর রক্তমাখা জামা পরে শনিবার রাতেই সোজা ঠাকুরপুকুর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
প্রতিবেশীরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগে রয়েছে। কাজলকে নিয়ে মিলনের সন্দেহের কথাও তাঁদের জানা ছিল। শনিবার সেই সন্দেহই ভয়ানক রূপ নেয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রাতে ঘরের মধ্যে প্রথমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাদানুবাদ হয়। তারপর রাগের মাথায় পাথর তুলে কাজলের মাথায় ও মুখে একের পর এক আঘাত করেন মিলন।
রক্তাক্ত অবস্থায় কাজলকে ফেলে রেখে মিলন নিজেই থানায় হাজির হন। ঠাকুরপুকুর থানার অফিসাররা জানান, থানায় ঢুকেই মিলন বলেন, “সব শেষ করে দিয়েছি।” এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর জখম কাজল বালাকে উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে স্থানান্তর করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে। বর্তমানে আইসিইউ-তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কাজলকে সন্দেহ করতেন মিলন। সেই সন্দেহই শেষ পর্যন্ত নৃশংস আকার নেয়। মুখ ও মাথায় একাধিক সেলাই পড়েছে তাঁর। ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ মিলন বালাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “ওদের মধ্যে ঝগড়া নতুন কিছু নয়, কিন্তু এভাবে এমন কাজ করবে ভাবতেও পারিনি। থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করবে—এটা তো সিনেমার মতো!”
পুলিশ সূত্রে খবর, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মিলনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু হয়েছে।