আট মাসের মধ্যেই শেষ হল পুরো বিচারপ্রক্রিয়া। আগামী সোমবার এই মামলার সাজা ঘোষণা করবেন বিচারক প্রজ্ঞাগার্গী ভট্টাচার্য (হুসেন)।

দোষী সাব্যস্ত মা-মেয়ে
শেষ আপডেট: 1 November 2025 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোনা আর সম্পত্তির লোভই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াল পিসি-শাশুড়ি সুমিতা ঘোষের জন্য। মধ্যমগ্রামের (Madhyamgram) হাড়হিম করা ট্রলি-কাণ্ডে অভিযুক্ত মা-মেয়ে আরতি ঘোষ ও ফাল্গুনী ঘোষকে শুক্রবার দোষী (Madhyamgram Trolley Murder Case) সাব্যস্ত করল বারাসতের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত। আট মাসের মধ্যেই শেষ হল পুরো বিচারপ্রক্রিয়া। আগামী সোমবার এই মামলার সাজা ঘোষণা করবেন বিচারক প্রজ্ঞাগার্গী ভট্টাচার্য (হুসেন)।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই প্রকাশ্যে আসে এই বিভীষিকাময় ঘটনা। তদন্তে উঠে আসে, বিবাহবিচ্ছেদের পর অসমে ভাইয়ের বাড়িতে থাকতেন সুমিতা ঘোষ। তাঁর ভাইপো অর্থাৎ সুমিতার ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয় ফাল্গুনী ঘোষের। কিন্তু সংসারে অশান্তি শুরু হতেই মা আরতি ঘোষের কাছে ফিরে আসে ফাল্গুনী। দু’জনে ভাড়া থাকতেন মধ্যমগ্রামের দক্ষিণ বীরেশপল্লিতে।
১১ ফেব্রুয়ারি, ফাল্গুনীর ডাকে সাড়া দিয়ে অসম থেকে কলকাতার বোন শিপ্রা ঘোষের বাড়িতে আসেন সুমিতা। সেখান থেকে শিয়ালদহ হয়ে মধ্যমগ্রামে পৌঁছন তিনি। দু’দিন পর বর্ধমানের সমুদ্রগড়ে প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে দেখা করতেও গিয়েছিলেন তিনজনেই। কিন্তু ফিরে আসার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি বেধে যায় তুমুল ঝামেলা।
তদন্তে জানা গেছে, সুমিতার সঙ্গে বচসার সময় ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে ফেলে ফাল্গুনী। সুমিতা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মা আরতির সঙ্গে মিলে শ্বাসরোধ করে খুন করে ফেলে সে। তার পর ধারালো বটি দিয়ে আলাদা করে মাথা। শুধু তাই নয়, মৃতার দেহ থেকে সোনার গয়নাও খুলে ফেলে দু’জনে। পরে সেগুলি বিক্রি করে প্রায় ২ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা পায় তারা। সেই টাকা দিয়ে নতুন গয়নাও কেনে ফাল্গুনী।
২৪ ফেব্রুয়ারি মৃতদেহ ঘরে রেখেই মা-মেয়ে যান বড়বাজারে, কেনেন ট্রলি। একই দিনে বউবাজারের একটি সোনার দোকানে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকার গয়নার অর্ডার দেন ফাল্গুনী। মৃত সুমিতার নামেই বিল কাটা হয়, অনলাইনে ৫০ হাজার টাকাও পাঠান তিনি।
বাড়ি ফিরে হাতুড়ি দিয়ে দেহের পা ভেঙে ট্রলিতে পুরে ফেলে তারা। ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে ট্রলিটি নিয়ে ট্যাক্সিতে করে পৌঁছয় কলকাতার কুমোরটুলি ঘাটে। কিন্তু স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় গঙ্গায় দেহ ফেলার আগেই ধরা পড়ে যায় মা-মেয়ে। নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলেই ট্রলির ভিতর থেকে উদ্ধার করে সুমিতা ঘোষের দেহ।
পরে মধ্যমগ্রাম থানার হাতে আসে তদন্তভার। ঘটনার পুনর্গঠন, ফরেনসিক রিপোর্ট, ট্যাক্সি ও ভ্যানচালকের জবানবন্দি, সোনার দোকানের মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ— সব মিলিয়ে পুলিশ জমা দেয় চার্জশিট। মোট ৩২ জন সাক্ষীর বয়ান শোনার পর ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১০৩(১) ও ২৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ফাল্গুনী ও আরতিকে।