বিপ্লব দেব বলেন, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন নিজেদের মতো দায়িত্ব পালন করছে। সরকারি প্রক্রিয়া নিজের গতিতে এগোবে। অন্যেরা যাই বলুক, তাতে কোনও লাভ নেই।

বিপ্লব দেব
শেষ আপডেট: 1 November 2025 15:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাজুড়ে এসআইআর (West Bengal SIR) নিয়ে বিতর্কের মাঝেই একাধিক আত্মহত্যার (Suicide) ঘটনা ঘটছে। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) দাবি করেছে, এর জন্য দায়ী বিজেপি (BJP) এবং নির্বাচন কমিশন (ECI)। কিন্তু সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়নি কোনও পক্ষই। এদিকে, বিজেপি সাংসদ ও ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব (Biplab Deb) এসআইআর ইস্যুতে পাল্টা নিশানায় নিয়েছেন রাজ্যের শাসক দলকেই।
সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ঘোষণার পর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা ঘটেছে চারটি। এই প্রসঙ্গে বিপ্লব দেবের কটাক্ষ, “এমন রিপোর্ট দেখানো হচ্ছে যেন আত্মহত্যার কারণ এসআইআর! আগামী দিনে কেউ হাত ভেঙে হাসপাতালে গেলে সেটাও কি এসআইআরের দোষ বলা হবে?” তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার কোনও সারবত্তা নেই বলেই দাবি করেছেন বিপ্লব দেব। তিনি বলেন, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন নিজেদের মতো দায়িত্ব পালন করছে। সরকারি প্রক্রিয়া নিজের গতিতে এগোবে। অন্যেরা যাই বলুক, তাতে কোনও লাভ নেই।
প্রসঙ্গত, NRC আতঙ্কে পানিহাটিতে এক প্রৌঢ়র আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা রাজ্যে শোরগোল ফেলেছে। এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই এনআরসি (NRC) আতঙ্কে ভুগছিলেন পানিহাটির (Panihati) মহাজ্যোতি নগরের বাসিন্দা প্রণদীপ কর (৫৭)। বুধবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতদেহের পাশেই মেলে একটি চিরকুট, তাতে লেখা, “আমার মৃত্যু এনআরসির জন্য।”
ভেবেছিলেন, এনআরসি প্রক্রিয়া শুরু হলে হয়তো নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন। রাতে খাওয়ার পর ঘুমোতে যান। সকালে বারবার ডাকার পরও দরজা না খোলায়, পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে।
দিনহাটাতেও একজন এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেছে তৃণমূল। এরই মধ্যে শুক্রবার ঘটে গেছে আরও এক ঘটনা। ব্যারাকপুরে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী (Death) হন এক গৃহবধূ। পরিবারের দাবি, বাংলাদেশের (Bangladesh) ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। প্রায় পনেরো বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল সবুজ সরকারের সঙ্গে। সম্প্রতি বিদেশি নাগরিক সন্দেহের মামলার মতো বিষয় সামনে আসতেই পরিবারে উদ্বেগ বেড়েছিল।