পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। আটক করা হয়েছে মৃতার স্বামী সবুজ সরকার, শ্বশুর সুরেশ সরকার ও ভাসুর শান্তি সরকারকে।
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 October 2025 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত আতঙ্ক ঘিরে আত্মহত্যার ঘটনা! এবার ঘটনাস্থল ব্যারাকপুর (Barrackpore)। পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেজি স্কুল রোডের মনসা মন্দির এলাকার বাসিন্দা কাকলি সরকার (৩৩) মঙ্গলবার রাতে নিজের ঘরে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী (Death) হন। দুই সন্তানের মা কাকলি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। আটক (Detained) করা হয়েছে মৃতার স্বামী সবুজ সরকার, শ্বশুর সুরেশ সরকার ও ভাসুর শান্তি সরকারকে। ঠিক কী কারণে এই সিদ্ধান্ত, তদন্তে নেমেছে ব্যারাকপুর থানার পুলিশ।
পরিবারের দাবি, বাংলাদেশের (Bangladesh) ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন কাকলি। প্রায় পনেরো বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল সবুজ সরকারের সঙ্গে। সম্প্রতি বিদেশি নাগরিক সন্দেহের মামলার মতো বিষয় সামনে আসতেই পরিবারে উদ্বেগ বেড়েছিল। কাকলির শাশুড়ির কথায়, “এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই সবাই ভয়ে ছিল। ও বলত, আবার বাংলাদেশে ফিরতে হবে।”
আত্মীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরে কাকলি স্বামীকে অনুরোধ করছিলেন তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু স্বামী নাকি অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। প্রথমে আইনি প্রক্রিয়ার মিটমাট হোক, তারপর সিদ্ধান্ত। অভিযোগ, মানসিক চাপে কাকলি তা মানতে পারেননি। রাতের অন্ধকারেই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।
স্থানীয়দের কথায়, “কিছুদিন ধরেই ওদের বাড়িতে দুশ্চিন্তার পরিবেশ ছিল। বাইরে তেমন কিছু বোঝা যেত না, কিন্তু ভেতরে খুব চাপ চলছিল।” গোটা ঘটনা ঘিরে শোকের ছায়া এলাকায়।
সম্প্রতি NRC আতঙ্কে পানিহাটিতে এক প্রৌঢ়র আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা রাজ্যে শোরগোল ফেলেছে। এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই এনআরসি (NRC) আতঙ্কে ভুগছিলেন পানিহাটির (Panihati) মহাজ্যোতি নগরের বাসিন্দা প্রণদীপ কর (৫৭)। বুধবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতদেহের পাশেই মেলে একটি চিরকুট, তাতে লেখা, “আমার মৃত্যু এনআরসির জন্য।”
ভেবেছিলেন, এনআরসি প্রক্রিয়া শুরু হলে হয়তো নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন। রাতে খাওয়ার পর ঘুমোতে যান। সকালে বারবার ডাকার পরও দরজা না খোলায়, পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃতের একটি পুরনো ডায়েরিতেও এনআরসি নিয়ে উদ্বেগের কথা লেখা ছিল। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি মুরলিধর শর্মা বলেন, “প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।”
পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রণদীপবাবুর জন্ম বাংলাতেই। কিন্তু তাঁর বাবা বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন। যে কারণে এনআরসি নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন।
এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন প্রণদীপবাবুর মৃত্যুর জন্য। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একধাপ এগিয়ে তোপ দেগেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে।