রাজ্যে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটের ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য আজকের নয়। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, গত দেড় বছরে ১৪০০ ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 15 September 2025 21:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণ মানুষ যাতে সময় মতো এসসি শংসাপত্র (SC Cerificate) পেয়ে যান, সে বিষয়টা নিশ্চিত করতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সূত্রের খবর, সোমবার নবান্নে এসসি কাউন্সিলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভুয়ো শংসাপত্র (Fake Certificate) নিয়ে। জানান, এই বশয়ে বেশ কিছু অভিযোগ তাঁর কানে আসছে। সেগুলি যাচাই করার সময় যাতে যোগ্যরা বাদ না পড়ে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে বলে এদিনের বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। দরকারে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে (Manoj Pant) এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলেছেন বলেও নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর।
সোমবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আবেদনকারীদের যাতে তফসিলি জাতির শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে, অনেক সময় আবেদনকারীর বাবার শংসাপত্র না থাকায় তাদের আবেদন আটকে যাচ্ছে। যদিও বংশানুক্রমে রক্তের সম্পর্ক প্রমাণ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতির কথা কাউন্সিলের সদস্য ও বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন, রক্তের সম্পর্ক থাকা এক জনের শংসাপত্র থাকলেই আবেদনকারী তফসিলি জাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। তবে একই সঙ্গে অযোগ্য কেউ যেন শংসাপত্র না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের শেষে কাউন্সিলের সদস্যরা অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতরের সচিব সঞ্জয় বনসলকে এই নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করার অনুরোধ জানান।
বস্তুত, রাজ্যে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটের ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য আজকের নয়। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, গত দেড় বছরে ১৪০০ ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগ, এই শংসাপত্রগুলি জাল করে বহু মানুষ সংরক্ষণের সুবিধা নিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
কয়েক মাস আগেও ট্রাইবাল অ্যাডভাইসারি কাউন্সিলের বৈঠকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে অভিযোগ করে বলা হয়েছিল যে, এসসি (SC), এসটি (ST) না হয়েও বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার সংরক্ষণের তালিকায় নাম ঢুকে যাচ্ছে প্রার্থীদের। অভিযোগ এনেছিলেন মন্ত্রীসভার সদস্য বীরবাহা হাঁসদা। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister)।
গত কয়েক বছরে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট ইস্যু নিয়ে প্রায় ৩৬ হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই-বাছাইয়ের পর দেখা যায়, বেশিরভাগ ভুয়ো শংসাপত্র দু’বছর বা তার আগের ইস্যু করা। আগে হাতে সই করা শংসাপত্র দেওয়া হলেও, দু’বছর আগে থেকে রাজ্য সরকার কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল কাস্ট সার্টিফিকেট চালু করে। তদন্তে উঠে এসেছে, পুরনো হাতে সই করা শংসাপত্রের ফাঁক কাজে লাগিয়ে এই জালিয়াতি চালানো হয়েছিল।
রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বারবার অভিযোগ এসেছিল যে, ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট জমা দিয়ে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের পর দেখা যায়, বহু শংসাপত্রে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতারণা করা হয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন।
ক'দিন আগেই দ্য ওয়ালে খবর হয়েছিল, নিট (NEET) কাউন্সিলিং-এ 'সন্দেহজনক' জাতিগত সংশাপত্র (ST) ব্যবহার করে ভর্তি নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সেই অভিযোগের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগ (West Bengal Tribal Development Department) থেকে সরাসরি স্বাস্থ্যভবনে (WB Swasthya Bhawan) একটি চিঠি পাঠানো হয়।