এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কণ্ঠে শোনা গেল নেপালের ভয়াবহ হিংসা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বেদনার সুর। বলেন, “কাল রাতেই কবিতা লিখেছি। খুব খারাপ লেগেছে। একজন মানুষকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হল, আর তার পর নানা ভঙ্গিমায় উল্লাস! এটা কোন সভ্যতা?”
তাঁর স্পষ্ট বার্তা, মতের অমিল থাকতেই পারে। কিন্তু ভিন্নমতের মানুষকে পুড়িয়ে মারা, অত্যাচার চালানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। “এখানে মানবিকতার কোনও চিহ্ন নেই,” বলেই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
প্রশাসনের তরফে তাঁর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করে জানালেন, “আমার কাছে আগে মানুষ। তারপর দল, রাজনীতি, সব কিছু। নিজের দলের কেউ অন্যায় করলে তাকেও ছাড়িনি।”
এর আগে জলপাইগুড়ির সরকারি সভা (Jalpaiguri) থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নেপালে আটকে থাকা বাংলার সবাইকে দু’-এক দিনের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা হবে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে।
মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, “তাড়াহুড়ো করবেন না। নিজেদের বিপদ ডেকে আনবেন না। আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি।”
মঙ্গলবার রাতভর উত্তরকন্যায় বসেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি নিজে। বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন। আমরা দেখে নিতে পারি।” সেই সঙ্গে কোভিডের সময় নিজের ভূমিকার কথাও মনে করিয়ে দেন, যখন “এক দিনও ছুটি নিইনি, সারা রাজ্য পাহারা দিয়েছি।”
উত্তরবঙ্গ সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী প্রথম দিনেই পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁর নির্দেশেই ইন্দো-নেপাল সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। রাজ্য পুলিশের আধিকারিকেরা এসএসবি’র সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।
এসএসবির ৪১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডান্ট যোগেশকুমার সিংয়ের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশকুমার যাদব ও দার্জিলিঙের পুলিশ সুপার প্রবীন প্রকাশ সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন। এরপরই সীমান্ত সংলগ্ন থানাগুলিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। পানিট্যাঙ্কি-সহ বিভিন্ন জায়গায় চলছে নাকা চেকিং।
দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার জানান, নেপাল পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কোনও ভারতীয় সমস্যায় পড়লে দার্জিলিং জেলা পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




