মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এ ব্যাপারে কেন্দ্রকে আমরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছি। যাতে আমরা কো-অর্ডিনেট করতে পারি। আমরা ডুবব আর ওরা জল ছাড়বে। এটা হতে পারে না।"

সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 10 September 2025 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি পরিষেবা বিলি, প্রকল্প উদ্বোধন ও শিলান্যাসের পাশাপাশি জলপাইগুড়ির এবিপিসি ময়দানের সভা (Government Distribution Ceremony in Jalpaiguri) বুধবার ফের রাজনৈতিক বার্তায় তেতে উঠল। একদিকে ৪০০ কোটির উন্নয়ন প্রকল্প, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ—সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Chief Minister Mamata Banerjee) জলপাইগুড়ি সফর হয়ে উঠল রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
সরকারি সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে একহাত নেন। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—“বাংলা বাংলা চালাবে, দিল্লি নয়। তোমরা আমাদের কন্ট্রোল করতে পারবে না।”
পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৪ হাজার পরিযায়ী পরিবারকে রাজ্যে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “যে দেড় কোটি বাইরের রাজ্যের মানুষ বাংলায় থাকেন, তাঁদের সরকারি পরিষেবা দিই আমরা। অথচ ডবল ইঞ্জিন সরকার আমাদের পরিযায়ী ভাইবোনদের মেরে তাড়ায়।”
এরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “দেশের নেতা কেমন হয়, গান্ধীজি যেমন হয়। আর ওরা বড়দিনের ছুটি বন্ধ করে দিয়েছিল। বাংলার ভাগের টাকাও আটকে রাখে, আর বলে বাংলা কিছু কাজ করে না!” তীব্র ভাষায় তিনি আরও বলেন, “টাকা দাও না, আবার প্রশ্ন তোলো কী করে!”
কটাক্ষের সুরে এও বলেন, "ভোট এলেই এনআরসি, ক্যা ক্যা করবে, এ জিনিস আর চলবে না। যতদিন বেঁচে থাকবে মানুষের হয়ে রাজনীতি করে যাব।"
বন্যা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে উত্তরবঙ্গের জল সমস্যার কথাও সভা থেকে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “দক্ষিণবঙ্গে ডিভিসি জল ছাড়ে, আর উত্তরবঙ্গে ভুটান। আমরা ডুবব আর ওরা জল ছাড়বে—এটা হতে পারে না।”
তিনি জানান, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশনে পশ্চিমবঙ্গকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়।
এদিনের সভা থেকে একদিকে যেমন উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলায় ১১,৬০০ পাট্টা প্রদান করা হয়, তেমনই ঘোষণা করা হয়, দক্ষিণবঙ্গে ইতিমধ্যেই ১৪টি জেলায় দেওয়া হয়েছে ৭ হাজারেরও বেশি পাট্টা।
২০২৩ সালে সিকিমে জলোচ্ছ্বাসে ঘর হারানো মালবাজারের ৯৮টি পরিবারকেও এই দিন হাতে পাট্টা তুলে দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই মঞ্চ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১ লক্ষ ৫৫ হাজার উপভোক্তাকে সরাসরি সরকারি পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে।
সভা জুড়ে নানা বার্তার মাঝেই মানুষের শক্তিকেই বড় করে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। নাম না করে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির প্রতি কটাক্ষ ছুড়ে বলেন, “মানুষই বড় পাইলট, তাই নেতা নয়, সিদ্ধান্ত নেবে মানুষই"।
অনুষ্ঠান ঘিরে জেলা জুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ সহ রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফেরার কথা মুখ্যমন্ত্রীর।