“রাজস্থানে মর্ডানাইজেশন করছে, কলকাতায় নয়”— বেসরকারি সংস্থাকে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 23 September 2025 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতভর বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলকাতা। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক মৃত্যুর খবর। অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে তিন জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট। পরিস্থিতি ঘিরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে শহর জুড়ে। খোলা তার, জলমগ্ন রাস্তায় বিপদ আরও বাড়ছে।
এই আবহে সরাসরি সিইএসসি-র পরিকাঠামোকে দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee blames CESC for loss of life due to exposed power lines)।
মঙ্গলবার দুপুরে একটি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন— “এর দায় সিইএসসি-কে নিতে হবে। এখনই জরুরি ভিত্তিতে কর্মীদের নামাতে হবে। এখানে ব্যবসা করছে, আর আধুনিকীকরণের কাজ করছে রাজস্থানে। কলকাতায় কেন করছে না? বলতে বলতে আমার মুখ ব্যথা হয়ে গিয়েছে।”
শুধু দায় চাপিয়েই থামেননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সিইএসসি-র কাছে মৃতদের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার দাবি জানান। মৃতদের পরিবারের পাশে রাজ্যও যে রয়েছে, তাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এও পরিষ্কার করেছেন, রাজ্য প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বতোভাবে রাস্তায় থাকবে। তবে তাঁর কথায়, “জলটা বার করবে কোথায়? সব তো ডুবে আছে।”
একবালপুরের হোসেন শাহ রোড থেকে নেতাজিনগর, বেনিয়াপুকুর, বেহালা, হরিদেবপুর, গড়ফা— শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একই ছবি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক মানুষ। গড়িয়াহাটেও উদ্ধার হয়েছে এক দেহ। বহু জায়গায় পড়ে রয়েছে খোলা তার। আতঙ্কে দিন কাটছে শহরবাসীর।
এ দিকে, নাগাড়ে বৃষ্টিতে উত্তর থেকে দক্ষিণ, জলমগ্ন গোটা শহর। বহু রাস্তা, যেগুলিতে আগে জল জমেনি, সেগুলিও ডুবে গিয়েছে হাঁটু সমান জলে। গঙ্গায় ফের জোয়ার এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।
এ ব্যাপারে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “নদীতে টগমগ জল, ক্যানেলগুলো ভরে আছে। আমরা পুরসভার ড্রেন থেকে জল ফেলতে গেলেই ব্যাক ফ্লো হয়ে তা আবার শহরে ফিরে আসছে। দুপুর দেড়টায় বড় বান আসবে। সেই বান কেটে গেলে তবেই জল নামানো সম্ভব হবে। আগে জল খালে যাবে, খাল থেকে নদীতে, তারপর সমুদ্রে। এর বাইরে কোনও উপায় নেই।”