মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) জানালেন, “প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা পুরসভার নেই। এবারের বৃষ্টি সম্পূর্ণ অ্যাবনর্মাল-অস্বাভাবিক।”

ববি হাকিম।
শেষ আপডেট: 23 September 2025 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাতভর অঝোর বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা। শহরের রাস্তাঘাট থেকে অলিগলি—সবখানেই হাঁটু জল, কোথাও বা কোমর পর্যন্ত। এই দুর্ভোগের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) জানালেন, “প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা পুরসভার নেই। এবারের বৃষ্টি সম্পূর্ণ অ্যাবনর্মাল-অস্বাভাবিক।”
মেয়রের কথায়, “এরকম মেঘভাঙা বৃষ্টি (Kolkata Rain Today) আমি কোনওদিন কলকাতায় দেখিনি। আমি এই শহরেই জন্মেছি, বড় হয়েছি। খবরের কাগজে পড়েছিলাম উত্তরাখণ্ড বা কাশ্মীরে এভাবে বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কলকাতায় ৩০০ মিমির বেশি বৃষ্টি এর আগে হয়নি।”
ভুল কথা বললেন মহানাগরিক। সোমবার রাত থেকে কলকাতায় যে বৃষ্টি হয়েছে তা হালফিলে বেনজির। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বালিগঞ্জ এলাকায়— ২৯৫ মিলিমিটার। এর পরেই রয়েছে মুকুন্দপুর (২৮০ মিমি), গড়িয়া (২৭০ মিমি), যাদবপুর (২৫৮ মিমি), গড়িয়াহাট (২৬২ মিমি) ও কসবা (২৪৬ মিমি)। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে উত্তর কলকাতার সাউথ দমদমে, মাত্র ৬১ মিমি।
এদিন সকালে প্যান্ট গুটিয়ে, ফ্রেইড পেরির পোলো শার্ট পরে পুরসভায় পৌঁছে যান মেয়র। তার সাংবাদিকদের বলেন, “বৃষ্টি ও নিম্নচাপে সমুদ্র উত্তাল হয়ে রয়েছে। নদীতে টগমগ করছে জল। খাল উপচে পড়ছে। ফলে পুরসভা থেকে ড্রেনেজ সিস্টেমে জল ফেলতে গেলেও তা ব্যাক ফ্লো হয়ে আবার শহরে ঢুকে পড়ছে। জল খালে না গেলে শহর থেকে জল নামবে কী করে!”
ফিরহাদ জানান, “দুপুর দেড়টায় হুগলি নদীতে বড় বাণ আসার কথা। সেই বাণ কেটে গেলে তবেই জল ফেলা সম্ভব হবে। কলকাতায় জল জমলে আগে খালে ফেলতে হয়, তারপর তা নদীতে যায়, শেষে সমুদ্রে। সমুদ্র ভরা থাকলে সেই প্রক্রিয়াও থেমে যায়।”
তাঁর কথায়, “যদি আর নতুন করে বৃষ্টি না হয়, তবে রাতের মধ্যে জল নেমে যাবে। তবে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে কোনও লাভ নেই। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে।”
মেয়র সতর্কবার্তা দেন নাগরিকদের উদ্দেশে—“আজ কেউ ঘর থেকে বেরোবেন না। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার খবর আসছে। জীবন ঝুঁকি নিয়ে বাইরে বেরোনো উচিত নয়।”
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যেই জানা গেছে, মুকুন্দপুর, গড়িয়া এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে তুমুল। মেয়রও জানান ওই এলাকায় সমস্যা বেশি। বিশেষ করে ১০৮ ও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ বলে জানান তিনি। সেখানে ড্রেনেজ সিস্টেমই নেই, ফলে জল নামার উপায় সীমিত।
মেয়র ব্যাখ্যা করেন, “পুরসভা পাইপ সিস্টেম ঘণ্টায় ২০ মিমি জল নামানোর ক্ষমতা রাখে। কিন্তু এবার ৩০০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এত পরিমাণ জল যখন খাল দিয়ে সমুদ্রে পৌঁছবে, তখনই ধীরে ধীরে জল নামবে। এর বাইরে কিছু করার উপায় নেই।”
তিনি স্বীকার করেন, প্লাস্টিকের বোতল ও আবর্জনা খাল-গালিপিটে জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। “পুজো কমিটির সামনে জমে থাকা প্লাস্টিক সরাতে হবে। আমরা গালিপিটগুলো খোলার নির্দেশ দিয়েছি,” বলেন ফিরহাদ।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে আনেন মেয়র। “এই রকম জল আমি ছোটবেলা থেকে কোনওদিন দেখিনি। ১৯৭৮ সালে বন্যা হয়েছিল, তখন এরকম জল দেখেছিলাম। তারপর আর দেখিনি। এবার আদিগঙ্গাও পুরো ভরে গিয়েছে।”
মেয়র জানান, রাস্তায় বসবাসকারী গরিব মানুষদের জন্য স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরসভার পক্ষ থেকে খাবারও দেওয়া হচ্ছে।
সবমিলিয়ে এটা স্পষ্ট প্রকৃতির কাছে অসহায় পুরসভা। বৃষ্টি না কমলে কলকাতার দুর্ভোগ কমবে না।
Firhad Hakim: এই বৃষ্টির সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষমতা পুরসভার নেই, হাত তুলে দিয়ে ‘অসহায়’ মেয়র
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাতভর অঝোর বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা। শহরের রাস্তাঘাট থেকে অলিগলি—সবখানেই হাঁটু জল, কোথাও বা কোমর পর্যন্ত। এই দুর্ভোগের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) জানালেন, “প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা পুরসভার নেই। এবারের বৃষ্টি সম্পূর্ণ অ্যাবনর্মাল-অস্বাভাবিক।”
মেয়রের কথায়, “এরকম মেঘভাঙা বৃষ্টি (Kolkata Rain Today) আমি কোনওদিন কলকাতায় দেখিনি। আমি এই শহরেই জন্মেছি, বড় হয়েছি। খবরের কাগজে পড়েছিলাম উত্তরাখণ্ড বা কাশ্মীরে এভাবে বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কলকাতায় ৩০০ মিমির বেশি বৃষ্টি এর আগে হয়নি।”
ভুল কথা বললেন মহানাগরিক। সোমবার রাত থেকে কলকাতায় যে বৃষ্টি হয়েছে তা হালফিলে বেনজির। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বালিগঞ্জ এলাকায়— ২৯৫ মিলিমিটার। এর পরেই রয়েছে মুকুন্দপুর (২৮০ মিমি), গড়িয়া (২৭০ মিমি), যাদবপুর (২৫৮ মিমি), গড়িয়াহাট (২৬২ মিমি) ও কসবা (২৪৬ মিমি)। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে উত্তর কলকাতার সাউথ দমদমে, মাত্র ৬১ মিমি।
এদিন সকালে প্যান্ট গুটিয়ে, ফ্রেইড পেরির পোলো শার্ট পরে পুরসভায় পৌঁছে যান মেয়র। তার সাংবাদিকদের বলেন, “বৃষ্টি ও নিম্নচাপে সমুদ্র উত্তাল হয়ে রয়েছে। নদীতে টগমগ করছে জল। খাল উপচে পড়ছে। ফলে পুরসভা থেকে ড্রেনেজ সিস্টেমে জল ফেলতে গেলেও তা ব্যাক ফ্লো হয়ে আবার শহরে ঢুকে পড়ছে। জল খালে না গেলে শহর থেকে জল নামবে কী করে!”
ফিরহাদ জানান, “দুপুর দেড়টায় হুগলি নদীতে বড় বাণ আসার কথা। সেই বাণ কেটে গেলে তবেই জল ফেলা সম্ভব হবে। কলকাতায় জল জমলে আগে খালে ফেলতে হয়, তারপর তা নদীতে যায়, শেষে সমুদ্রে। সমুদ্র ভরা থাকলে সেই প্রক্রিয়াও থেমে যায়।”
তাঁর কথায়, “যদি আর নতুন করে বৃষ্টি না হয়, তবে রাতের মধ্যে জল নেমে যাবে। তবে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে কোনও লাভ নেই। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে।”
মেয়র সতর্কবার্তা দেন নাগরিকদের উদ্দেশে—“আজ কেউ ঘর থেকে বেরোবেন না। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার খবর আসছে। জীবন ঝুঁকি নিয়ে বাইরে বেরোনো উচিত নয়।”
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যেই জানা গেছে, মুকুন্দপুর, গড়িয়া এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে তুমুল। মেয়রও জানান ওই এলাকায় সমস্যা বেশি। বিশেষ করে ১০৮ ও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ বলে জানান তিনি। সেখানে ড্রেনেজ সিস্টেমই নেই, ফলে জল নামার উপায় সীমিত।
মেয়র ব্যাখ্যা করেন, “পুরসভা পাইপ সিস্টেম ঘণ্টায় ২০ মিমি জল নামানোর ক্ষমতা রাখে। কিন্তু এবার ৩০০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এত পরিমাণ জল যখন খাল দিয়ে সমুদ্রে পৌঁছবে, তখনই ধীরে ধীরে জল নামবে। এর বাইরে কিছু করার উপায় নেই।”
তিনি স্বীকার করেন, প্লাস্টিকের বোতল ও আবর্জনা খাল-গালিপিটে জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। “পুজো কমিটির সামনে জমে থাকা প্লাস্টিক সরাতে হবে। আমরা গালিপিটগুলো খোলার নির্দেশ দিয়েছি,” বলেন ফিরহাদ।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে আনেন মেয়র। “এই রকম জল আমি ছোটবেলা থেকে কোনওদিন দেখিনি। ১৯৭৮ সালে বন্যা হয়েছিল, তখন এরকম জল দেখেছিলাম। তারপর আর দেখিনি। এবার আদিগঙ্গাও পুরো ভরে গিয়েছে।”
মেয়র জানান, রাস্তায় বসবাসকারী গরিব মানুষদের জন্য স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরসভার পক্ষ থেকে খাবারও দেওয়া হচ্ছে।
সবমিলিয়ে এটা স্পষ্ট প্রকৃতির কাছে অসহায় পুরসভা। বৃষ্টি না কমলে কলকাতার দুর্ভোগ কমবে না।