পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 17 August 2025 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাকতলায় এক সরকারি স্কুলের ভেতর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ। নেতাজিনগর থানায় পকসো আইনে রুজু মামলা।
অভিযোগ, স্কুল প্রাঙ্গণে চলা এক বেসরকারি ইংরেজি-মাধ্যম শাখার ক্লাসরুমে ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানি করেন এক বহিরাগত। অভিযুক্তকে অভিভাবকেরা প্রথমে ধরে ফেললেও পরে তিনি পালিয়ে যান।
ঠিক কী ঘটেছিল?
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, ১৩ অগস্ট ঘটনাটি ঘটে। সেই দিন ওই ইংরেজি-মাধ্যম শাখায় বই দিতে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। সেই সময় ক্লাসরুমে একা থাকা ছাত্রীকে তিনি হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। স্কুলের বাইরে অভিভাবকেরা ছিলেন। তাঁরা বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্তকে ধরে ফেলে মারধর করেন। পরে বিশৃঙ্খলার মাঝেই হাতছাড়া হয়ে যান।
স্কুলে বেসরকারি শাখা, শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রশ্ন
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি স্কুলের ওই প্রাঙ্গণেই শম্পা দাস নামে এক শিক্ষিকা বেসরকারি ইংরেজি-মাধ্যম স্কুল চালান। অভিযোগ উঠেছে, ওই ব্যক্তি সেদিন শম্পা দাসের সঙ্গেই দেখা করতে এসেছিলেন। আরও অভিযোগ, হেনস্থার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য করেছে স্কুলের লোকজন।
স্কুলের পাশে থাকা এক ব্যক্তি জানান, সাধারণত স্কুলে বাইরের পুরুষ ঢোকেন না, ঘটনায় এক মহিলা কর্মী বাধা দিলে অভিযুক্তকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার চেষ্টা হয়, পরে আর এক শিক্ষিকা ওই ব্যক্তিকে 'তাড়াতাড়ি চলে যেতে' বলেন, এমনই অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগ ওঠার পরও স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন তৎক্ষণাৎ কঠোর পদক্ষেপ নিল না এবং কীভাবে অভিযুক্ত পালালেন।
ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে নেতাজিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। অভিভাবকরা স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান এবং দ্রুত গ্রেফতারির দাবি তোলেন। পুলিশ জানিয়েছে, পকসো ধারায় মামলা হয়েছে, অভিযোগের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
এক বেসরকারি সংবাদ মাধ্যম শম্পা দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিন্তু তিনি প্রথমে অসুস্থ আছেন বলে জানান, কথা বলতে চাননি। পরে তাঁর বাড়িতে গেলে পরিচারিকা জানান, সপরিবারে পুরীতে গিয়েছেন। শম্পা দাসের স্বামীও ফোনে একই কথা বলেন। শম্পা দাস ফোনে কোনও স্পষ্ট জবাব দেননি।
জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার বলেন, 'আরজি কর, কসবা ল’কলেজের পর থেকে একই ধরনের ঘটনা আমরা বারবার দেখে চলেছি। এখানে একটা শিশু, স্কুলের মধ্যেই শ্লীলতাহানির মুখে পড়ল, কী প্রচণ্ড মানসিক চাপ, ভয়, আতঙ্ক। এটা দূর করার বদলে শিক্ষিকা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন-এটা আরও মারাত্মক।'
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। অভিভাবক ও স্থানীয়রা স্কুল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট জবাব চান।