গত ৩১ জুলাই বিচারপতি অজিত কুমার অনুরার যুক্তি মেনে তদন্ত প্রতিবেদন ও বরখাস্তের আদেশ খারিজ করে দেন। আদালত আহমেদকে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে তিন মাসের মধ্যে নতুন করে তদন্ত সম্পূর্ণ করার কথা জানায়।

বাবার সঙ্গে আইনজীবী মেয়ে
শেষ আপডেট: 10 August 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা তখন উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) পুলিশের শীর্ষকর্তা, মেয়ে পেশায় আইনজীবী। কর্তব্য ও পেশাগত নীতিতে কেউই ছাড় দিলেন না একে অপরকে। শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক কনস্টেবলকে বরখাস্ত করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইজি রাকেশ সিং। সেই সিদ্ধান্তই আদালতে চ্যালেঞ্জ করে মামলায় জয়ী হলেন তাঁর মেয়ে, অ্যাডভোকেট অনুরা সিং।
ঘটনা ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারি। পিলভিটের এক নাবালিকাকে ট্রেনে করে বেয়ারেলি আসার পরদিন শ্লীলতাহানির (Molestation) অভিযোগ ওঠে কনস্টেবল তৌফিক আহমেদের বিরুদ্ধে। রেল পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করে এবং তাঁকে গ্রেফতার করে। এরপরই বরখাস্তের নির্দেশ দেন বেয়ারেলি রেঞ্জের আইজি রাকেশ সিং, যা তিনি “কঠোর কিন্তু কর্তব্যনিষ্ঠ” সিদ্ধান্ত বলেই বর্ণনা করেছিলেন।
তবে তৌফিক আহমেদ সেই বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে যান এলাহাবাদ হাইকোর্টে। সেখানে তাঁর আইনজীবী হিসেবে দাঁড়ান অনুরা সিং— আইজি রাকেশ সিংয়েরই মেয়ে। অনুরার যুক্তি ছিল, বিভাগীয় তদন্তে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সাব-অর্ডিনেট র্যাঙ্কস (শাস্তি ও আপিল) নিয়ম, ১৯৯১ লঙ্ঘিত হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিক শুধু অভিযোগ প্রমাণিত বলে ঘোষণা করেননি, নিজে থেকেই শাস্তির সুপারিশও করেছেন, যা আসলে শাস্তিদানকারী কর্তৃপক্ষের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে।
গত ৩১ জুলাই বিচারপতি অজিত কুমার অনুরার যুক্তি মেনে তদন্ত প্রতিবেদন ও বরখাস্তের আদেশ খারিজ করে দেন। আদালত আহমেদকে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে তিন মাসের মধ্যে নতুন করে তদন্ত সম্পূর্ণ করার কথা জানায়।
রাকেশ সিং বলেন, “মেয়ের জয় আমার কাছে গর্বের বিষয়। নিশ্চয়ই তদন্তে কিছু ত্রুটি ছিল।” অন্যদিকে অনুরা জানান, “আমি আইনজীবী হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করেছি, আর বাবা সরকার পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর।”
তৌফিক আহমেদ কৃতজ্ঞতা জানালেও বলেন, মামলার সময় তিনি জানতেন না তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে অভিযুক্ত কর্তৃপক্ষের এমন ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।