রাজনাথের বক্তব্য, “কিছু শক্তি আছে, যারা ভারতের সাফল্যে খুশি নয়। তারা ভাবে সবকা বস তো আমরাই, তাহলে ভারত এত তাড়াতাড়ি এগোচ্ছে কীভাবে? তারা চাইছে ভারতীয় পণ্যের দাম এত বাড়িয়ে দিক, যাতে বিদেশে তার বাজার নষ্ট হয়ে যায়।"

রাজনাথ সিং ও ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 10 August 2025 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) শুল্কবৃদ্ধি ও বাণিজ্য হুমকির জবাবে সরাসরি পাল্টা আক্রমণ শানালেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। রবিবার এক সভায় তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যে সবকা বস সেজে বসে আছে, তারা ভারতের এই দ্রুত উত্থান হজম করতে পারছে না।”
রাজনাথের বক্তব্য, “কিছু শক্তি আছে, যারা ভারতের সাফল্যে খুশি নয়। তারা ভাবে সবকা বস তো আমরাই, তাহলে ভারত এত তাড়াতাড়ি এগোচ্ছে কীভাবে? তারা চাইছে ভারতীয় পণ্যের দাম এত বাড়িয়ে দিক, যাতে বিদেশে তার বাজার নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি— ভারতকে বড় শক্তি হওয়া থেকে আর কেউ আটকাতে পারবে না।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ট্রাম্প ভারতীয় আমদানির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখায় আরও ২৫ শতাংশ জরিমানা ঘোষণা করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, সতর্ক করেছেন যে শিগগিরই ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’-এর মতো কড়া পদক্ষেপও আসতে পারে। ভারতের অর্থনীতিকে “মৃত” বলে কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প, আর তাঁর ঘনিষ্ঠরা অভিযোগ তুলেছেন— ভারত নাকি রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধকে আর্থিকভাবে সাহায্য করছে।
এমন পরিস্থিতিতেও আশাবাদী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তাঁর দাবি, “আজ আমরা বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি করছি। এই সাফল্যই নতুন ভারতের শক্তি।”
দিল্লি ইতিমধ্যেই মার্কিন শুল্কবৃদ্ধিকে “অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে। সরকারের সাফ কথা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাশিয়ার তেল কেনা প্রসঙ্গে ভারতের যুক্তি— বাজারের প্রয়োজন এবং দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তাই মূল অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, “কৃষক, জেলে ও দুগ্ধখাতের স্বার্থে ভারত কখনও আপস করবে না। আমেরিকার শুল্কের ধাক্কা আমরা সামলাতে পারব।”
উল্লেখ্য, কৃষি ও দুগ্ধশিল্প নিয়ে ভারত-আমেরিকা বহুদিন ধরে মতবিরোধে জর্জরিত। কিন্তু রাশিয়ার তেল আমদানি ও উচ্চ শুল্কের জেরে এবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন— ভারতের সঙ্গে আর কোনও বাণিজ্য আলোচনা হবে না।