পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েক দিন আগে। প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন মা-ছেলে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 September 2025 19:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণীতে (Banshdroni) এক বহুতলের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে মা ও ছেলের পচাগলা দেহ (Dead Body Found)। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃত শিলা দাশগুপ্তের বয়স ৬৯, আর তাঁর ছেলে সুতীর্থ দাশগুপ্তর বয়স ৩৮।
মঙ্গলবার দুপুরে ব্রহ্মপুর এলাকার (Brahmapur) ওই ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে। খবর পেয়ে বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। খাটের উপর মা-ছেলের দেহ মিলেছে, তাতে পচন ধরে গেছে। ঘর থেকে একাধিক ঘুমের ওষুধের খালি স্ট্রিপ উদ্ধার হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যার (Suicide) ঘটনা।
পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েক দিন আগে। প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন মা-ছেলে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে না।
পড়শিদের কাছ থেকে জানা গেছে, দাশগুপ্ত পরিবার আগে ওড়িশার পুরীতে থাকত। শিলা দেবীর স্বামী সেখানকার এক কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুরীর সব কিছু বিক্রি করে মা ও ছেলে প্রায় দেড় বছর আগে কলকাতার এই ফ্ল্যাটে আসেন। প্রতিবেশীদের মতে, সুতীর্থ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন, চিকিৎসাও চলছিল। অন্যদিকে শিলা দেবীর কয়েক বছর আগে ওড়িশায় মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার হয়।
ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দুটি পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় আতঙ্কিত ও হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও কেউ কেউ খুনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
এদিকে এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল যখন রাতভরের বৃষ্টির জেরে কলকাতায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। প্রথম ঘটনা নেতাজিনগরে। ভোরে সাইকেলে বেরোনো ফল বিক্রেতা বাবু কুণ্ডু (৭০) জলাবদ্ধ রাস্তায় পড়ে গিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে হাত দিতেই প্রাণ হারান। একইভাবে কালিকাপুর মোড়ে মৃত্যু হয় বছর পঞ্চাশের এক ব্যক্তির। গড়িয়াহাটের বালিগঞ্জ প্লেস, ইকবালপুরের হোসেন সাহ রোড, আর বেনিয়াপুকুরেও উদ্ধার হয়েছে দেহ। চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজের পাশে জলমগ্ন এলাকায় এক অচেনা যুবকের দেহ উদ্ধার হয়—তাঁর মৃত্যুও বিদ্যুতের আঘাতেই বলে ধারণা।