এর আগে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) মামলায় আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছিল। তারও আগে, গ্রুপ-সি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান তিনি।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 15 September 2025 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিকের মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) ফের জামিনের আবেদন করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court)। তবে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের একক বেঞ্চে রায়দান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। যদি এই মাম্মাল্য আদালত জামিন মঞ্জুর (Partha Chatterjee Bail Plea) করে তাহলেই জেলমুক্তি হবে তাঁর। সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলাতেই জামিন চেয়ে আবেদন করেন পার্থ।
এর আগে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) মামলায় আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছিল। তারও আগে, গ্রুপ-সি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। তবে সব ক্ষেত্রেই জেল থেকে মুক্তি মেলেনি। হাইকোর্টের এই মামলায় যদি জামিন মেলে, তবেই দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের কারাবাসের ইতি ঘটতে পারে তাঁর।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে একাধিক নিয়োগ মামলায় নাম জড়িয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা উদ্ধার হওয়ায় আরও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, যে সময় পার্থ মন্ত্রী ছিলেন, সেই সময়ের সমস্ত নিয়োগকেই সম্প্রতি বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। নতুন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে এবং চলতি মাসেই প্রার্থীরা আবারও পরীক্ষায় বসেছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পার্থর জামিন আবেদনের উপর দৃষ্টি ছিল সকলের। তবে আদালত একইসঙ্গে কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় ও অশোক সাহার জামিনের আবেদন খারিজ করেছে।
বস্তুত, ইডি-র তল্লাশিতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছিল। পাশাপাশি সোনাদানা ও বাড়িসহ মোট প্রায় ৬০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই ঘটনার পর গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি-সহ একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ায় পার্থর। ইডির পর তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই, এবং পরে চার্জশিটও দাখিল করা হয়।
অর্পিতা মুখোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জামিনে মুক্ত হলেও পার্থ এখনও জেলবন্দি। একাধিকবার তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জামিন চেয়েছেন। এমনকি নিজের শারীরিক অসুস্থতার দিকও তুলে ধরেছেন। তবু এখনও পর্যন্ত মুক্তি মেলেনি তাঁর।
নিয়োগ মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্ত জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু কেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জামিন দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে আদালতে বারবার প্রশ্ন তুলছেন তাঁর আইনজীবীরা। অপর দিকে, সিবিআইয়ের দাবি, এই নিয়োগ দুর্নীতির মূলচক্রীই পার্থ। মন্ত্রিত্ব হারালেও তাঁর প্রভাব অটুট। ফলে তিনি মুক্তি পেলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এখন নজর হাইকোর্টের রায়ের দিকে, বিশেষত প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার।