Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউ

২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গুদাম, আনন্দপুরে হাহাকার! ধৈর্য ধরে রাখতে পারছেন না নিখোঁজদের পরিজনরা

২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আনন্দপুরের গুদামের আগুন নেভেনি। নিখোঁজ কর্মীদের খোঁজে অপেক্ষা করতে করতে ভেঙে পড়ছেন তাঁদের পরিজনরা।

 ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গুদাম, আনন্দপুরে হাহাকার! ধৈর্য ধরে রাখতে পারছেন না নিখোঁজদের পরিজনরা

আনন্দপুরের ওই গুদামের বর্তমান পরিস্থিতি

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 27 January 2026 09:25

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার মাঝরাতে আনন্দপুরে একটি ব্র্যান্ডেড মোমো তৈরির কারখানায় আগুন লাগে। আর পাঁচটা সাধারণ আগুন লাগার ঘটনার মতোই মনে হয়েছিল এটিও। কিন্তু বেলা গড়াতেই একে একে নিখোঁজ লোকজনের কথা সামনে আসতে থাকে। তাঁদের কেউ ছিলেন রাতের পাহারায়, কেউ আবার কারখানাতেই থাকতেন। প্রথমে এনিয়ে মুখ না খুললেও পরিস্থিতি ভয়াবহ দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের কাছ থেকেই নানা অভিযোগ শোনা যায়। একদিকে যখন বাবা-দাদাদের খুঁজতে অস্থির অনেকে, অন্যদিকে তখন আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দলকলকর্মীরা।

৬ ঘণ্টা, ৭, ১০, ১৫! না আগুন এতেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে মঙ্গলবার সকালেও জ্বলছে ওই কারখানা। স্থানীয়দের একাংশ জানাচ্ছে, প্রচুর পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডাল ও পাম অয়েল মুজত থাকায় আগুনের তীব্রতা এত। কিন্তু তা বলে ২৪ ঘণ্টা? প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরাও জানতে চাইছেন, ঠিক কী মজুত ছিল ওখানে, কীভাবে জতুগৃহে পরিণত হল ওই কারখানা, যাতে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণেই আনা গেল না! উত্তর এখনও মেলেনি।

এদিকে, শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসমর্থিত সূত্রে খবর, ৩০ জন নিখোঁজ। তাদের কাউকেও পাওয়া যায়নি এপর্যন্ত। তাই মৃতের সংখ্যা নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে ক্রমশ, উদ্বেগ বাড়ছে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও।

মঙ্গলবার সকালে নিখোঁজ এক কর্মীর আত্মীয় ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ করেন, “জল দেওয়া ছাড়া দমকল কিছুই করতে পারছে না। আমাদের পরিচিতদের দেহ হয়তো আমাদেরই খুঁজে নিতে হবে!”

এদিন সকাল ৬টা নাগাদ দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের জায়গায় কাজ করছিল মাত্র পাঁচটি। তবে, বিভিন্ন দিক থেকে বারবার জল ছিটিয়েও ফল মেলেনি। ধিকিধিকি আগুন জ্বলতেই থাকে নাজিরাবাদের ওই বিশাল গুদাম চত্বরে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ভিতরে আটকে থাকা কর্মীদের বাঁচার সম্ভাবনা নিয়ে কার্যত আশা ছেড়ে দিচ্ছেন প্রায় সকলেই।

সোমবার সন্ধ্যা গড়াতে গুদামের বাইরে আনা হয়েছিল আর্থ মুভার মেশিন (Earth Mover)। বাইরে জমায়েত হওয়া স্থানীয় মানুষজন ও পরিবারগুলি দাবি করতে থাকে, অগ্নিকাণ্ডের রাতে ওই কারখানায় ৩০ জনেরও বেশি কর্মী ছিলেন। প্রাথমিক হিসাবও সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। প্রথমে তিন জন কর্মীর মৃত্যুর খবর মিললেও পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় আট জনে। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ কমপক্ষে ৩০ জন। আগুন না নেভায় আশঙ্কা, কারখানার ভিতরেই তাঁরা জতুগৃহের মতো পরিবেশে আটকে পড়েছেন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ঝলসে যাওয়া দেহ ও কঙ্কালগুলির পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার পথে হাঁটছে প্রশাসন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। পরীক্ষার ফল মিলিয়ে দেহ শনাক্ত করার পর জানানো হবে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে।

এদিকে ঘটনাস্থলে এত লোকের ভিড় হওয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। তবে আগুন সম্পূর্ণ নেভানো না গেলে উদ্ধারকাজে গতি আসবে না বলেই মনে করছেন দমকলকর্মীরা।


```