এই কর্মসূচিতে কোনও দলীয় বৈঠকের উল্লেখ নেই, তবু ভোটের প্রাক্কালে এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল কম নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র সহযোগী হিসেবে পরিচিত শাহের উপস্থিতি যে বার্তা বহন করে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে নানা মহলে।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 16 February 2026 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) আবহে আবারও বঙ্গ সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। আগামী বুধবার নদিয়ার মায়াপুরে ISKCON-এর একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সূচি অনুযায়ী, এ সফরে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই তাঁর। অনুষ্ঠান শেষ করেই সেদিনই দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা অমিত শাহর।
সূত্রের খবর, বিশেষ বিমানে কলকাতায় পৌঁছে বিমানবন্দর থেকেই বিএসএফের হেলিকপ্টারে (Amit Shah BSF Helicopter) সরাসরি মায়াপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিকেলে ইসকনের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সংগঠনের শঙ্খভবন ও পদ্মভবন পরিদর্শনের পাশাপাশি সাধুসন্তদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের ১৫২তম জন্মোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে।
যদিও এই কর্মসূচিতে কোনও দলীয় বৈঠকের উল্লেখ নেই, তবু ভোটের প্রাক্কালে এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল কম নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র সহযোগী হিসেবে পরিচিত শাহের উপস্থিতি যে বার্তা বহন করে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে নানা মহলে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে রাজ্যে এসেছিলেন তিনি। সেই সফরের পর আবার এত দ্রুত আগমন - তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও বিজেপি সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক সফর।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নদিয়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ তৎপর। মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একাধিক দফায় পরিদর্শন সেরে ফেলেছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিক সফর নিছক কাকতালীয় নয়। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় আসছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা (Rekha Gupta)। সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে মহিলা মোর্চার এক সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা। বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তা ইস্যুতে বিজেপি যে জোর দিচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শুধু তাই নয়, চলতি সপ্তাহেই রাজ্যে আসার কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করি (Nitin Gadkari)-রও। ফলে ফেব্রুয়ারির শেষভাগে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের একের পর এক সফর রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলেই মত বিশ্লেষকদের।
শাহের নির্ধারিত সূচিতে রাজনীতি না থাকলেও, নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় নেতাদের আনাগোনা ঘিরে জল্পনা যে বাড়বেই, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। মায়াপুরের ধর্মীয় মঞ্চ থেকেই কি কোনও বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা উঠে আসবে? উত্তর মিলবে বুধবারের সফরেই।