এদিন ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় মূলত নেশামুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে প্রতিবাদ দেখায় এবিভিপি। যাদবপুর কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনার দায় নিতে হবে বলে সরব হয়েছে তারা। এই প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট টপকে ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন প্রতিবাদীরা।

নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 12 September 2025 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে তৃতীয় বর্ষের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর (Student Death) ঘটনায় চরম বিক্ষোভ দেখাল এবিভিপি (ABVP)। শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে জমায়েত করে তাঁরা। তারপর পতাকা হাতে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের পাশের পুকুর থেকে মৃতার দেহ উদ্ধার হয়। জানা গেছে, ওই পড়ুয়ার বাড়ি নিমতায়। তবে ঠিক কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবিভিপি। তাদের বক্তব্য, পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়নি ক্যাম্পাসে। কারণ তা লাগালেই কর্তৃপক্ষের আসল চেহারা বেরিয়ে আসবে।
এদিন ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় মূলত নেশামুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে প্রতিবাদ দেখায় এবিভিপি। যাদবপুর কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনার দায় নিতে হবে বলে সরব হয়েছে তারা। এই প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট টপকে ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন প্রতিবাদীরা। তবে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় কেউই ঢুকতে পারেননি। পরে ৮বি বাসস্ট্যান্ডের মোড়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করে তারা থানার পর্যন্ত মিছিল করে বিক্ষোভ করে। পাশাপাশি সন্ধে নামতেই এই ঘটনায় মশাল মিছিল করে তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের সদস্যরা।

ঘটনাস্থলের চারপাশে তিনটি সিসি ক্যামেরা থাকলেও, যে পুকুর থেকে পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেখানে কোনও ক্যামেরা মুখ করে নেই। ফলে তিনি কীভাবে পুকুরে পড়লেন, তা এখনও অজানা। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুকুরের চারপাশে পুলিশি ঘেরাও করা হয়েছে এবং সেখানে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসে বৈঠক করেছে কেন্দ্রীয় টাস্ক ফোর্স। আট জন সদস্যের একটি দল এদিন কর্তৃপক্ষ ও পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন। ওঠে 'নিরাপত্তা ও সুরক্ষা' প্রসঙ্গ। কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের রহস্যমৃত্যু হয়। সে নিয়ে শোরগোল পড়ার পরই এই টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছিল।
এই মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই অবাধে চলে মদ্যপান। তাঁদের দাবি, ‘‘এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। স্থায়ী সিসিটিভি ও পুলিশ পোস্ট না থাকায় এই বিপত্তি বারবার ঘটছে (CCTV and security)।’’ অন্যদিকে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কচকচানিই তৃণমূলের চরিত্র প্রকাশ করছে।’’