রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুরসভার ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের দারাপাড়া এলাকায় শুরু হয় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ। অভিযোগ, পাথর ছোড়া থেকে শুরু করে বোমাবাজি - সব মিলিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 25 August 2025 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার তপসিয়ায় (Topsia) বোমাবাজি কাণ্ডে (Blast Incident) গ্রেফতার (Arrest) হলেন যুব তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতি (TMC Word President) তাবরেজ আলম। একই সঙ্গে পাকড়াও হয়েছেন তাঁর বাবা, যিনি একসময় ওই এলাকার যুব তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। পুলিশ (Police) সূত্রে খবর, শাসকদলের এই দুই নেতার পাশাপাশি আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ধারালো অস্ত্রও। এই নিয়ে দারাপাড়ার বোমাবাজি কাণ্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৪।
যুব তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের দাবি, দলের সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি যদি এ ধরনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন, তবে দল তা কখনওই সমর্থন করবে না। উত্তর কলকাতা যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রকাশ্যে বলেন, ‘‘যে দোষী, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবেই।’’ তবে বিরোধী শিবির বলছে, গ্রেফতারি নিয়ে অস্বস্তি ঢাকতে সাফাই দিয়েছেন তিনি।

গ্রেফতার তৃণমূল নেতা
প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুরসভার ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের দারাপাড়া এলাকায় শুরু হয় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ। অভিযোগ, পাথর ছোড়া থেকে শুরু করে বোমাবাজি - সব মিলিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়। গুরুতর আহত হন অন্তত তিনজন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক মহিলা। আক্রান্ত এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘গেট বন্ধ করতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল, কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। ঘরে ঢুকেই দেখি রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারদিক।’’
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই সংঘর্ষের নেপথ্যে রয়েছে এলাকা দখলের লড়াই। তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের অনেকেই শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত। যদিও স্থানীয় কাউন্সিলর বলছেন, ‘‘দারাপাড়া এমন একটা অঞ্চল যেখানে আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। আমি বারবার থানায় জানিয়েছি। বড়বাবুও সব জানেন, কারা করছে।’’
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার জেরে কার্যত কোণঠাসা তৃণমূল। কারণ, সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শাসকদলের দিকে। যদিও শাসক শিবির চেষ্টা করছে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলার সমস্যার দিকে ঠেলে দিতে।
তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা ঘটনায় আরও কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি দারাপাড়ার রাস্তায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল।
তপসিয়ার এই ঘটনার পর ফের একবার উঠে আসছে একটি প্রশ্ন - কলকাতার অন্দরে রাজনৈতিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কি আইনশৃঙ্খলার বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে?