এক বছর আগেও একই কাহিনি— মোবাইল, পুকুর, তদন্ত। এবার শুধু বদল ঘটল জলের রকমফেরে। পুকুরের স্বচ্ছ জল নয়, এবার সাক্ষী নর্দমার ধুলো-জল! তবে প্রশ্ন একটাই— জীবনকৃষ্ণ কি সত্যিই চক্রান্তের শিকার, না কি ধামাচাপা দেওয়ার ছক? তদন্তের চোখ এখন সেই দিকেই।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 25 August 2025 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরি দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Corruption Scam) ফের গ্রেফতার। বাড়িতে তল্লাশি, মোবাইল পুকুরে— চিত্রনাট্য প্রায় এক, শুধু বছরটা বদলেছে।
এবারও নিজেকে ‘চক্রান্তের শিকার’ বলে দাবি করলেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা (Tmc MLA, Jibankrishna Saha)। সোমবার ফের তাঁকে গ্রেফতার করল ইডি। আর তার আগেই ঘটল বহুচর্চিত ‘মোবাইল কাণ্ড’— তবে এইবার গন্তব্য ঠিক হল না। ফোন পড়ল নর্দমায়!
সোমবার সকালেই জীবনকৃষ্ণের কান্দির বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ২০২৩ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন! সে বারও সিবিআইয়ের তল্লাশির সময় বাড়ি থেকে দু’টি মোবাইল ফোন পুকুরে ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরে জল শুকিয়ে উদ্ধার করা হয় ফোন, পুনরুদ্ধার হয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও।
এইবার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ফের মোবাইল ছুড়ে দেন বিধায়ক। কিন্তু ‘টার্গেট’ মিস! ফোন সোজা গিয়ে পড়ে বাড়ির সামনের নর্দমায়। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ফোন উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করে ইডি।
বিকেলে তাঁকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বিধাননগর সাব-ডিভিশন হাসপাতালে। সেখানে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে জীবনকৃষ্ণ বলেন, “আমি চক্রান্তের শিকার।” কিন্তু কার চক্রান্ত? কীভাবে ফাঁসানো হল তাঁকে? কেনই বা ফোন পুকুরে ছুড়েছিলেন, তাতে কী তথ্য রয়েছে? — এসব প্রশ্নের উত্তর অধরাই রইল।
২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই প্রথমবার গ্রেফতার করে তাঁকে। ১৩ মাস জেল খেটে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান। বিধানসভাতেও ফেরেন। এর মাঝেই ফের তদন্তে নামল ইডি।
সূত্রের খবর, শুধু কান্দির বাড়িই নয়, তল্লাশি চালানো হয়েছে বিধায়কের পিসি এবং শ্বশুরবাড়িতেও। তদন্তকারী সংস্থা জানায়, তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিতে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হবে।
এক বছর আগেও একই কাহিনি— মোবাইল, পুকুর, তদন্ত। এবার শুধু বদল ঘটল জলের রকমফেরে। পুকুরের স্বচ্ছ জল নয়, এবার সাক্ষী নর্দমার ধুলো-জল! তবে প্রশ্ন একটাই— জীবনকৃষ্ণ কি সত্যিই চক্রান্তের শিকার, না কি ধামাচাপা দেওয়ার ছক? তদন্তের চোখ এখন সেই দিকেই।