আদালতের প্রশ্ন, “তদন্তকারীর ভূমিকাই তো এখানে সন্দেহজনক হয়ে যাচ্ছে। কেন তদন্তকারী অফিসার ময়না তদন্তকারী চিকিৎসককে ফোন করবেন?”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 8 September 2025 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেজুরির বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে ফের সরগরম আদালত (Khejuri murder Case,)। তদন্তকারীর ভূমিকা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
সোমবার তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকের মোবাইল কল ডিটেলস আদালতে জমা দেয় পুলিশ। প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ময়না তদন্তের ঠিক আগে এবং পরে একাধিকবার ওই চিকিৎসককে ফোন করেছিলেন তদন্তকারী অফিসার।
এই তথ্য শুনেই বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি শব্বার রশিদের ডিভিশন বেঞ্চ বিস্মিত। আদালতের প্রশ্ন, “তদন্তকারীর ভূমিকাই তো এখানে সন্দেহজনক হয়ে যাচ্ছে। কেন তদন্তকারী অফিসার ময়না তদন্তকারী চিকিৎসককে ফোন করবেন?”
যদিও সিআইডি আদালতে জানায়, কল লিস্টে কোনও সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত যুক্তি দেন, চিকিৎসক নিজেই জানিয়েছেন বিশেষ কোনও কারণে ওই ফোন আসেনি।
কিন্তু এতে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। বিচারপতি বসাক স্পষ্ট মন্তব্য করেন, “কোনও তথ্য-প্রমাণ না পেয়েই শুধু মুখের কথার ভিত্তিতে রাজ্য জানাচ্ছে সন্দেহজনক কিছু নেই! এর ভিত্তি কোথায়?”
এরপর রাজ্য আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করে। কিন্তু বেঞ্চের সুর ছিল কড়া। আদালত জানায়, এর আগে থানার আইসি-সহ একাধিক ব্যক্তির কল ডিটেলস চেয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেসবের বিস্তারিত রিপোর্টও জমা দিতে হবে।
রাজ্যের আবেদনে আদালত আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় দিয়েছে। ফলে খেজুরির বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর তদন্তে তদন্তকারীর ভূমিকাই এখন কেন্দ্রবিন্দু। আগামী সপ্তাহে ফের শুনানি, তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে হেফাজতে নিয়ে জেরার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।