নওসাদ এও বলেন, “বালি হোক বা চাকরি চুরি, ওদের সেই ক্ষমতা নেই। কলকাতায় পৌঁছনোই আসল চ্যালেঞ্জ। সেখানে ইডি বা সিবিআই আদৌ পৌঁছতে পারবে কি?”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 8 September 2025 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য রাজনীতিতে ফের সরগরম ইডি অভিযানের পরিপ্রেক্ষিত (Central Agency)। সোমবার সকাল থেকে ঝাড়গ্রাম, কলকাতার বেহালা-সহ রাজ্যের ২২টি জায়গায় বেআইনি বালি তোলার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ইডি। ভোটের আগে এই পদক্ষেপ ঘিরেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
প্রথমে আক্রমণের সুরে নওসাদ সিদ্দিকি (Nausad Siddiqui)। আইএসএফ বিধায়ক বলেন, “ভোট যত এগিয়ে আসে, ততই সক্রিয় হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত দিন কোথায় ছিল ওরা? সাড়ে চার বছর ধরে কেন ঘুমোচ্ছিল? চাকরি বিক্রি থেকে বালি চুরি—সব ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে সাহেব পর্যন্ত যেতে পারছে না। জেলা নেতাদের পর্যন্ত গিয়ে আটকে যাচ্ছে তদন্ত। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পর্যন্ত বলেছে— ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসে নটোরিয়াস ক্রিমিনাল জড়িত। কিন্তু সেই মামলাগুলো আজও কতদূর?”
এরপরই পাল্টা জবাব দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নওসাদকে কটাক্ষ করে বলেন, “নওসাদ ভাই ঠিক কী বলতে চাইছেন, সেটা তিনিই ভালো জানেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যখন নবান্নে গিয়েছিলেন, তখন এগুলো নিয়ে কি আলোচনা হয়েছিল? আজও তা অজানা রয়ে গেল।”
নওসাদ এও বলেন, “বালি হোক বা চাকরি চুরি, ওদের সেই ক্ষমতা নেই। কলকাতায় পৌঁছনোই আসল চ্যালেঞ্জ। সেখানে ইডি বা সিবিআই আদৌ পৌঁছতে পারবে কি?”
পাল্টা জবাবে শুভেন্দু মনে করিয়েছেন, “লোকসভা ভোটে ডায়মন্ডহারবারে দাঁড়াবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে প্রার্থী হওয়া থেকে সরে দাঁড়ালেন কেন? এর পিছনে কী কারণ, তা জনসাধারণ জানতে চায়।”
সবশেষে আরও তীব্র আক্রমণে শুভেন্দুর ইঙ্গিত, “এখন থেকেই নওসাদ প্রেসারের নাটক সাজাচ্ছেন। যাতে আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে গিয়ে তৃণমূলের হাতে হাত রেখে বলতে পারেন—‘চাপ নিতে পারলাম না, তাই চলে এলাম।’ পরিকল্পনাটাই পরিষ্কার।”
অর্থাৎ, এক দিকে নওসাদের অভিযোগ— কেন্দ্রীয় এজেন্সির সীমাহীন অক্ষমতা। অন্য দিকে শুভেন্দুর ইঙ্গিত— রাজনৈতিক স্বার্থে ভবিষ্যতের পথ বানিয়ে নিচ্ছেন আইএসএফ নেতা। ইডি অভিযান থেকে শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই গিয়ে ঠেকল রাজ্যের ভোট রাজনীতির অঙ্কে।